আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের আগে জাতীয় দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন সার্জিও রোমেরো। তিনি ছিলেন লিওনেল মেসির সতীর্থ এবং ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম সদস্য। সেই বিশ্বকাপেই মেসির সামনে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ এসেছিল। এবার রোমেরো নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারে নতুন দিক বেছে নিতে প্রস্তুত হচ্ছেন—তবে খেলোয়াড় হিসেবে নয়, কোচ হিসেবে।
আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের হয়ে শেষবার খেলার পর রোমেরো পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে ৩৯ বছরে পা দেওয়া এই গোলরক্ষক সাম্প্রতিক খেলোয়াড় বদল মৌসুমে অন্তত ২০২৬ সাল পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু পারিবারিক কারণে তিনি ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেন এবং পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে প্রধান কোচ হওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।
একটি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক খেলোয়াড় বদল মৌসুমে রোমেরো নতুন কোনো ক্লাব খুঁজছিলেন। তার একমাত্র শর্ত ছিল বুয়েনস আইরেসে থাকা। তবে পাওয়া প্রস্তাবগুলো তাকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি। আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের সঙ্গে চুক্তি শেষ করার পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকার কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি গ্লাভস তুলে রেখে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করার সিদ্ধান্তে পৌঁজানুয়ারির মাঝামাঝি এক সাক্ষাৎকারে রোমেরো বলেছিলেন, তিনি খেলোয়াড় হিসেবে সক্রিয় থাকতে চান—হোক সেটা মূল একাদশে বা বিকল্প হিসেবে। তিনি বলেন, ‘যদি তা না হয়, তাহলে আমি মাঠের অন্য পাশে গিয়ে নতুন ক্যারিয়ার শুরু করতে প্রস্তুত। আমি মনে করি সেটাও খুব সুন্দর একটি পথ হবে।’ তিনি ২০২৩ সালে বোকা জুনিয়র্সে খেলার সময়ই কোচিং লাইসেন্স অর্জন করেন এবং নিজের কোচিং দলও গঠন করে ফেলেছেন।
রোমেরো একসময় রেসিং ক্লাব থেকে ডাক পাওয়ার সম্ভাবনার কথাও ভেবেছিলেন। তবে ক্লাবটির সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালোভাবে শেষ হয়নি। ফলে ক্লাবের বর্তমান কোচ গুস্তাভো কোস্তাস তাকে দলে না নিয়ে অন্য একজন গোলরক্ষককে দলে ফেরান।
রোমেরো স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি সহকারী কোচ বা গোলরক্ষক প্রশিক্ষক নয়, সরাসরি প্রধান কোচ হিসেবেই কাজ করতে চান। তিনি বলেন, ‘আমি অনেক ফুটবল দেখি। বিশ্বের প্রায় সব দেশের লিগ, এমনকি নিচের স্তরের লিগও দেখি। আমার কোচিং দর্শন হলো—দলের খেলোয়াড়দের সামর্থ্য অনুযায়ী কৌশল সাজানো।’
ইউরোপে খেলার সময় তিনি যেসব কোচের অধীনে কাজ করেছেন—যেমন লুই ফন গাল, হোসে মরিনিও, তাতা মার্তিনো ও আলেহান্দ্রো সাবেয়া—তাদের কাছ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতাই তাকে নিজের পথ খুঁজে নিতে সাহায্য করেছে বলেও জানান তিনি।
জাতীয় দলে গোলরক্ষক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড এখনও রোমেরোর দখলে। তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে ৯৬টি ম্যাচ খেলেছেন। বর্তমানে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ সেই রেকর্ড ভাঙার চেষ্টায় আছেন, যার ম্যাচ সংখ্যা এখন ৫৭।
২০০৭ সালে কানাডায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ এবং ২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জয়ের পর রোমেরোকে সিনিয়র দলে সুযোগ দেন দিয়েগো মারাদোনা। তিনি ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার মূল গোলরক্ষক ছিলেন। পরে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের আগে হাঁটুর চোটের কারণে তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়।
















