বাংলাদেশি সমাজে ধর্ম, চরিত্র ও বাস্তবতার সুন্দর সমন্বয় হওয়া জরুরী। বিবাহ ইসলামি জীবনব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি শুধু দু’জন মানুষের মিলন নয়; বরং দুটি পরিবার, দুটি মানসিকতা এবং একটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভিত্তি। তাই ইসলামী শরিয়ত একজন উপযুক্ত বিবাহযোগ্য কন্যার ক্ষেত্রে কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই গুণাবলি আরও বাস্তব ও প্রাসঙ্গিক।
১. দ্বীনদারিতা ও আল্লাহভীতি—সবার আগে
ইসলামে একজন নারীর সবচেয়ে বড় গুণ হলো তার দ্বীনদারিতা। সৌন্দর্য, সম্পদ বা সামাজিক অবস্থান ক্ষণস্থায়ী হতে পারে, কিন্তু ঈমান ও তাকওয়া একটি সংসারকে দীর্ঘস্থায়ী ও বরকতময় করে তোলে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
> “নারীকে চারটি বিষয়ে বিবাহ করা হয়—তার সম্পদ, বংশ, সৌন্দর্য ও দ্বীনের জন্য। তুমি দ্বীনদার নারীকে অগ্রাধিকার দাও।”
(সহীহ বুখারি ও সহীহ মুসলিম)
বাংলাদেশের বাস্তবতায় দেখা যায়, ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন নারী সংসারের দায়িত্ব, শ্বশুরবাড়ির সম্পর্ক এবং সন্তান লালনে অধিক সচেতন ও ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হন।
২. চরিত্র ও শালীনতা
ইসলামে নারীর হায়া বা লজ্জাশীলতা একটি মহৎ গুণ হিসেবে বিবেচিত। কথাবার্তা, পোশাক, আচরণ ও সামাজিক চলাফেরায় শালীনতা একজন নারীর ব্যক্তিত্বকে আরও মর্যাদাবান করে তোলে।
বাংলাদেশি সমাজে যেখানে পারিবারিক বন্ধন এখনো শক্তিশালী, সেখানে শালীন ও ভদ্র স্বভাবের কন্যা সংসারে শান্তি ও সম্মান বয়ে আনে।
৩. স্বামী ও পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীলতা
একজন উপযুক্ত বিবাহযোগ্য কন্যা সংসারকে শুধু “থাকার জায়গা” নয়, বরং মানসিক প্রশান্তির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে জানেন। ইসলাম স্বামীর প্রতি সম্মান, পারিবারিক দায়িত্ব পালন এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
> “যদি কোনো নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, রোজা রাখে, সতীত্ব রক্ষা করে এবং স্বামীর আনুগত্য করে—তবে তাকে বলা হবে, জান্নাতের যেকোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ কর।”
(মুসনাদ আহমদ)
৪. ধৈর্য, সহনশীলতা ও বুদ্ধিমত্তা
সংসার জীবনে সব সময় সুখ থাকে না। অর্থনৈতিক চাপ, পারিবারিক মতবিরোধ বা জীবনের চড়াই-উতরাই—সবকিছুর মধ্যেই ধৈর্য ও বিচক্ষণতার প্রয়োজন। ইসলামী শিক্ষায় ধৈর্যশীল নারীকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের বাস্তব জীবনে একজন সহনশীল ও বাস্তববুদ্ধিসম্পন্ন নারী সংসারকে ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করতে পারেন।
৫. শিক্ষা ও জীবনবোধ
ইসলাম নারী শিক্ষার বিরোধী নয়; বরং জ্ঞান অর্জনকে উৎসাহিত করে। একজন বিবাহযোগ্য কন্যার প্রয়োজনীয় দ্বীনি জ্ঞান, পারিবারিক সচেতনতা এবং নৈতিক শিক্ষা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষিত ও সচেতন নারী সন্তানদের নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হন—যা একটি সমাজের জন্য অমূল্য সম্পদ।
ইসলামী দৃষ্টিতে উপযুক্ত বিবাহযোগ্য কন্যা মানেই নিখুঁত বা ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে কেউ নন। বরং তিনি সেই নারী, যিনি আল্লাহকে ভয় করেন, চরিত্রে দৃঢ়, সংসারে দায়িত্বশীল এবং জীবনকে ইবাদতের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় এই গুণাবলিই একটি শান্ত, সুস্থ ও বরকতময় দাম্পত্য জীবনের মূল চাবিকাঠি।
















