পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম এক লাফে অনেকটা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংগঠনের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে বাজুস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সকাল ১০টা থেকেই সারা দেশে নতুন এই মূল্য কার্যকর করা হয়েছে। মূলত স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সমন্বয় করা হয়েছে বলে বাজুস সূত্র জানিয়েছে।নতুন নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী, স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৮ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা। স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দাম ভরিতে ২৯২ টাকা কমেছে, যার ফলে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা এখন ৬ হাজার ৬৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৭৩২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।চলতি বছরে দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামের ওঠানামা বেশ লক্ষ্যণীয় ছিল। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত ৪৪ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ বার দাম কমানো সম্ভব হলেও ২৬ বার বাড়ানো হয়েছিল। গত বছর এই পরিবর্তনের সংখ্যা ছিল ৯৩ বার।
অন্যদিকে রুপার দাম এ বছর এ পর্যন্ত ২৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১১ বার দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। গত ১৪ মার্চের পর আজ ১৯ মার্চ পুনরায় দাম কমানোর এই সিদ্ধান্তটি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বড় একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঈদের কেনাকাটার একদম শেষ সময়ে এসে মূল্যবান এই ধাতু দুটির দাম কমে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। বিশেষ করে যারা উৎসবের কেনাকাটায় অলঙ্কার কেনার পরিকল্পনা করছিলেন, তাদের জন্য এটি একটি বিশেষ প্রাপ্তি।
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় বাজারে এই দর পতন হওয়ায় ব্যবসায়ীরাও ভালো বিক্রির আশা করছেন। বর্তমানে বাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতা কত দিন বজায় থাকবে তা নিশ্চিত নয়, তবে ঈদের আগ মুহূর্তের এই ঘোষণাটি জুয়েলারি খাতে নতুন প্রাণসঞ্চার করেছে।
















