ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস এরিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর প্রতিবাদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গাফিলতির জবাব চেয়ে প্রক্টর অফিস ঘেরাও করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। এ সময় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনের আওতায় আনার আল্টিমেটাম দেন তারা।
আজ শনিবার দুপুর ১টা ১০ মিনিটে প্রক্টর অফিসের সামনে অবস্থান নেয় তারা। এ সময় তারা ছাত্রলীগ পোস্টারিং করে, প্রশাসন কি করে; একশন একশন ডাইরেক্ট একশন; বাঁশের লাঠি তৈরি করো, ছাত্রলীগ ধোলাই করো; জ্বালোরে জ্বালো, আগুন জ্বালো; ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ; লাল জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠো আরেকবারসহ আরও স্লোগান দেন ডাকসুর নেতৃবৃন্দরা।
ক্যাম্পাসে পোস্টার লাগানোর বিষয়ে প্রক্টর অফিসে ছাত্র প্রতিনিধিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের সঙ্গে কথা বলেন।সে সময় প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘পোস্টার কখন লাগিয়েছে আমি যদি জানতাম তাহলে তো ওরে ধরে ফেলতাম। আমি সিকিউরিটি অফিসারকে বলেছি প্রত্যেক দারোয়ানের পরিচয় বের করো এবং এস্টেট অফিস যেন এখনই ওদের বরখাস্ত করে। আমরা ওদের ডাকব প্রত্যেককে ওখানে কি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এবার আমরা কঠোর ব্যবস্থায় যাব। আমাদের চারুকলার ওখানে দারোয়ান থাকে, কার্জন হলে দারোয়ান থাকে, কলাভবনে দারোয়ান থাকে, তারপরও কিভাবে এরা লাগায়? আমি প্রভোস্ট এবং এস্টেট অফিসকে বলেছি এদের তালিকা তৈরি করো।’
ছাত্র প্রতিনিধিরা এ সময় ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে প্রক্টরকে বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোন কোন কুলাঙ্গার ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে পোস্টার টাঙাইছে, এটা আপনারা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আইডেন্টিফাই করে এদেরকে পুলিশের হাতে নিয়ে আসবেন।
প্রক্টর অফিস থেকে বের হয়ে সংবাদ সম্মেলনে ডাকসু সমাজ সেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠনটি (ছাত্রলীগ) গতরাতেই শুধু নয়, এর আগেও বিভিন্ন সময় ক্যাম্পাসে উসকানিমূলক কাজ করেছে। তারা শেখ হাসিনার ছবি, ব্যানার টানানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ গেটে তালা লাগানোর মতো কাজ করেছে। যা প্রশাসনের অবহেলার কারণেই তারা এসব করার সাহস পাচ্ছে।’
এ সময় তিনি প্রশ্ন তোলে বলেন, ‘যারা ১৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে, তারা প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কীভাবে ক্যাম্পাসে পোস্টার লাগানোর সাহস পায়? আমরা প্রক্টরকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছি সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে দায়ীদের শনাক্ত করার জন্য।’
জুবায়ের ছাত্রলীগকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে চোরের মতো এসে পোস্টার লাগিয়ে যেও না, যদি ধরা পড়ো তবে কুত্তার মতো পেটানো হবে। যারা শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরিয়েছে, তাদের সাথে কোনো আপস করা হবে না।’
















