গেল ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সের ফাইনালে স্বাগতিক মরক্কোকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল সেনেগাল। শিরোপার জয়ের পর ট্রফি উল্লাস, বাঁধভাঙা আনন্দ এমনকি নিজ দেশে ছাদ খোলা বাসেও ঘুরেছিলেন সাদিও মানে, পেপে গুয়েরা। তার দুই মাস পর গতকাল সেনেগাল জানতে পারল তারা নয়, শিরোপা জিতেছে মরক্কো, তাও ৩-০ গোলে!মূলত, ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে কর্নার থেকে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াস ফাউলের শিকার হলে ভিএআর চেক করে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়ে সেনেগাল শিবির। প্রতিবাদ হিসেবে সেনেগাল কোচ পাপ ঝাও তার শিষ্যদের মাঠ ছেড়ে ড্রেসিংরুমে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সেনেগাল অধিনায়ক সানিও মানের কথায় ১৭ মিনিট পর আবারও মাঠে ফিরেছিল সেনেগালের খেলোয়াড়রা।তবে স্নায়ুর চাপে ভেঙে পড়েন দিয়াস। তার নেওয়া দুর্বল ‘পানেলকা’ শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন সেনেগাল গোলরক্ষক এডুয়ার্ড মেন্ডি। ম্যাচের পর আফ্রিকান ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে ফলাফল নিয়ে আপিল করেছিল মরক্কো ফুটবল ফেডারেশন। মরক্কোর আপিল পর্যালোচনা করে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, সেনেগাল ম্যাচটি ‘পরিত্যাগ’ করেছে। যা গতকাল এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে ৩-০ গোলে মরক্কোর পক্ষে ফল নথিভুক্ত করা হয়েছে।আফকন বিধিমালার ৮২ ও ৮৪ ধারার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কোনো দল যদি ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই রেফারির অনুমতি ছাড়া মাঠ ছাড়ে, তবে সেটিকে পরাজিত ধরে নেওয়া হবে এবং প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ফল ৩-০ ধরা হবে। মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশন জানায়, তাদের আপিলের উদ্দেশ্য ‘পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তোলা ছিল না। বরং তারা চেয়েছে, প্রতিযোগিতার নিয়ম যেন সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়’।অন্যদিকে এ সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায়, নজিরবিহীন ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছে সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন। তারা জানিয়েছে, শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টের (সিএএস) দ্বারস্থ হবে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সেনেগাল অধিনায়ক সাদিও মানে। নিজের ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে আল নাসর তারকা মানে লিখেন, ‘যা ঘটেছে তা মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এটি সেই ফুটবল নয় যার জন্য আমরা লড়াই করি, কিংবা সেই আফ্রিকা নয় যাকে আমরা বিশ্বাস করি। আমাদের খেলায় দুর্নীতির প্রভাব অনেক বেশি, যা মহাদেশের লক্ষ লক্ষ ভক্তের আবেগ ও ভালোবাসাকে মেরে ফেলছে।’
স্প্যানিশ ক্লাব রায়ো ভায়েকানোর হয়ে খেলা পাথে সিসও একইভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি ট্রফি হাতে নিজের একটি ছবি পোস্ট করেছেন এবং সঙ্গে পাঁচটি হাসির ইমোজি ব্যবহার করেছেন। ফরাসি ক্লাব তুলুজে খেলা তরুণ সেনেগালিজ মিডফিল্ডার পাপে দেম্বা দিওপ বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, যেন পাগলা গারদে আছি।’ সেনেগালের সাবেক কোচ আলিউ সিসে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা কী? এপ্রিল ফুলের মজা কি? আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। এটা সত্য হতে পারে না।’
















