পবিত্র মাহে রমজান শেষের দিকে। দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর ইফতার ও সেহরির খাদ্যাভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে অনেকেরই বিভিন্ন ধরনের হজমজনিত সমস্যা দেখা দেয়। এর মধ্যে বুক জ্বালাপোড়া করা, পেট ফাঁপা ফাঁপা লাগা, গলায় কিছু আটকে থাকার মতো অনুভূতি, বদহজম, বমি বমি ভাব ইত্যাদি উপসর্গ বেশ সাধারণ। রমজান মাসের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে এসে অনেকেই এ ধরনের সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন এবং তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে- এগুলো থেকে মুক্তি পেতে কোন ওষুধ খাওয়া উচিত। অনেকেই প্রথমেই ওষুধের দিকে ঝুঁকে পড়েন। বাজারে গ্যাস বা অম্বল কমানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের লিকুইড, ক্যাপসুল, ট্যাবলেট ও স্যাচেট পাওয়া যায়। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এসব ওষুধের কার্যকারিতা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে এবং অনেক সময় রোগীরা বিভ্রান্তিতে পড়েন- কোনটি খেলে ভালো হবে। সাধারণভাবে বলা যায়, যেটি আপনার শরীরে কাজ করে এবং উপসর্গ কিছুটা প্রশমিত করে, সেটি সাময়িকভাবে গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে শুধু ওষুধের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করা এবং সেটি এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বুক জ্বালাপোড়া বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যাগুলো সাধারণত খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার কিছু ভুলের কারণে বেশি হয়। বিশেষ করে ইফতারের সময় অনেকেই একসাথে অতিরিক্ত খাবার খেয়ে ফেলেন। ভরা পেটে বিভিন্ন ধরনের ভাজাপোড়া, মসলাযুক্ত বা তৈলাক্ত খাবার খাওয়ার পর যদি কেউ সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়েন বা কোনো শারীরিক নড়াচড়া না করেন, তাহলে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। ফলে পেটে গ্যাস জমে, বুক জ্বালাপোড়া শুরু হয় এবং বদহজমের আশঙ্কা বাড়ে। তাই একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার না খেয়ে পরিমিত খাবার গ্রহণ করা এবং খাওয়ার পর কিছুটা হাঁটাচলা করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়াও বাইরের খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভালো। ইফতারে ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত তেলযুক্ত ও মসলাযুক্ত খাবার কম খাওয়া উচিত। এর পরিবর্তে সহজপাচ্য ও স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া গেলে হজমের সমস্যা অনেকটাই কমে যায়। পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং ধীরে ধীরে খাবার খাওয়ার অভ্যাসও গ্যাস বা অম্বলের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। তারপরও যদি গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে প্রথমেই ওষুধের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়া ঠিক নয়। ঘরোয়া কিছু সহজ উপায়ও অনেক সময় উপকার দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, অল্প পরিমাণ বেকিং সোডা পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেলে অনেক ক্ষেত্রে অম্বল বা বুক জ্বালাপোড়া কিছুটা কমে যেতে পারে। তবে এসব পদ্ধতি ব্যবহারের পরও যদি সমস্যার উন্নতি না হয় বা বারবার একই উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শÍএই তিনটি বিষয় মেনে চললে রমজান মাসে বুক জ্বালাপোড়া, পেট ফাঁপা বা বদহজমের মতো সমস্যাগুলো সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
লেখক : মেডিসিন, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও লিভার বিশেষজ্ঞঅ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, হেপাটোলজি বিভাগ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
চেম্বার : পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড, শ্যামলী-২, ঢাকা
হটলাইন : ০৯৬৬৬৭৮৭৮০১, ১০৬৩৬
















