লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য জানায়।
সাইফের মৃত্যুর বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা লিবিয়ান নিউজ এজেন্সি।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সাইফের আইনজীবী জানান, চার সদস্যের একটি ‘কমান্ডো ইউনিট’ লিবিয়ার জিনতান শহরে তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে। হামলার পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সাইফের বোন লিবিয়ার একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেন, সাইফ আল-ইসলাম আলজেরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় নিহত হয়েছেন।
তার বাবা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পর দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি। ১৯৭২ সালে জন্ম নেওয়া সাইফ ২০০০ সালের পর থেকে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে লিবিয়ার সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার উদ্যোগেই একসময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একঘরে হয়ে পড়া লিবিয়া ধীরে ধীরে কূটনৈতিকভাবে স্বীকৃতি পেতে শুরু করে।
বিশেষ করে গাদ্দাফি সরকারের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগের পেছনে সাইফ আল-ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ওই সিদ্ধান্তের পর লিবিয়ার ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। সে সময় অনেকেই তাকে পরিবর্তনশীল লিবিয়ার ‘সংস্কারপন্থী মুখ’ হিসেবে দেখেছিলেন।
তবে ২০১১ সালে আরব বসন্তের ঢেউয়ে গাদ্দাফি সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হওয়ার পর সাইফকে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে সহিংস ভূমিকার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। এরপর জিনতান শহরে একটি বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী তাকে প্রায় ছয় বছর আটক করে রাখে।
২০১৫ সালে লিবিয়ার একটি আদালত তার অনুপস্থিতিতে তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২০১১ সালের বিক্ষোভ দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে চেয়েছিলেন।
যদিও সাইফ বরাবরই দাবি করে আসছিলেন, তিনি তার বাবার উত্তরসূরি হতে চান না। একসময় তিনি বলেছিলেন, ‘ক্ষমতা কোনো উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমিজমা নয়।’ তবু ২০২১ সালে তিনি লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে সেই নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়।সাইফের মৃত্যুর খবরে লিবিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পেছনের শক্তি সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি দেশটির সরকার।
















