ছুটির পর ছুটি কাটিয়ে আজ ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে জাতীয় ফুটবল দলের স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরার। সিঙ্গাপুর ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু হবে। আগামী ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরে এশিয়ান কাপ ফুটবল বাছাইয়ে গ্রুপের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচ জিতলে কোনো লাভ নেই। সান্ত্বনার জয়, নিয়মরক্ষার লড়াই। বাংলাদেশ চাইছে জয় দিয়ে শেষ করতে। সি গ্রুপে সিঙ্গাপুর এক নম্বরে। ৫ খেলায় ১১ পয়েন্ট পেয়েছে। গ্রুপের একমাত্র দল, এখনো হারেনি। ঘরের মাঠে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরেছিল।শক্তিশালী সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে সিঙ্গাপুর যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ। হামজা চৌধুরী, শামিত সোম, ফাহমিদুল আহমেদ, জায়ান আহমেদদের নিয়েই দল গঠন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সিঙ্গাপুর যাওয়ার আগে বাংলাদেশ দল ভিয়েতনামে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। ভিয়েতনামের বিপক্ষে ম্যাচ হবে আগামী ২৬ মার্চ। ওখান থেকে ২৭ মার্চ সিঙ্গাপুর যাবেন জামাল ভূঁইয়ারা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিমান চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের খেসারত দিচ্ছে পুরো বিশ্ব।যুদ্ধের কারণে সিঙ্গাপুর যাওয়ার ফ্লাইট পাওয়া নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। আগামী ২১ মার্চ ফুটবল দলের ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। ফ্লাইট জটিলতায় সেটি ২০ মার্চ করা হয়েছে। চীন হয়ে ভিয়েতনাম যাবে। সেখান থেকে খেলে সিঙ্গাপুর যাবে। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ বিমানে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।হামজা চৌধুরী ঢাকায় আসবেন না তিনি লন্ডন থেকে সরাসরি ভিয়েতনাম যাবেন। ওখানেই দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে লন্ডন ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। হামজা ছাড়া তারিক কাজী, জায়ান, ফাহমিদুলরা ঢাকায় এসে দলের সঙ্গে ভিয়েতনাম যাবেন। জাতীয় দলের প্রাথমিক তালিকায় ৪০ জনের নাম রয়েছে। অনুশীলনে ডাকা হবে ৩০ জনকে। তালিকায় রয়েছেন পাঁচ গোলরক্ষক-বসুন্ধরা কিংসের মেহেদী হাসান শ্রাবণ, মোহামেডানের সুজন, আবাহনীর মিতুল মারমা, ব্রাদার্সের ইসহাক আকন্দ।বসুন্ধরা কিংসের আনিসুর রহমান জিকো আবার ক্যাম্পে ডাক পাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি উপেক্ষার পাত্র হয়ে আছেন। কোচিং স্টাফ সূত্রে জানা গেছে, জিকোর শারীরিক ওজন বৃদ্ধি হয়েছিল বেশি। কমিয়ে আনতে বলা হলেও নাকি তিনি কথার কর্ণাপত করেননি। আবার কারো মতে, ভিন্ন কথাও শোনা যায়। সব শেষ কথা হচ্ছে জিকোর জন্য এবার বড় সুযোগ। পিডব্লিউডির স্ট্রাইকার স্বাধীনের নাম শোনা যাচ্ছে জাতীয় প্রাথমিক দলে। শোনা যাচ্ছে, এবার প্রথম বিভাগ ফুটবলে মহাখালী একাদশের স্ট্রাইকার ১৮ গোল করা মাশরাফির কথাও। বাফুফের শীর্ষ কর্তার মুখে শোনা গিয়েছিল স্বাধীন-মাশরাফিদের মতো তরুণ ফুটবল প্রতিভার কথা।
মাশরাফিরা বিদেশি কোচের চোখে পড়েন না। বিদেশি কোচরা মহাখালী একাদশের মতো দলের খেলা দেখতে মাঠে যান না। যে কারণে লুকিয়ে থাকা এসব প্রতিভার খোঁজও দিতে পারেন না। বিদেশি খেলোয়াড়রা ক্লাব ফুটবল দখল করে রেখেছে। কর্মকর্তারা বিদেশি বলতে স্ট্রাইকার আনতে চান। ফলে দেশি স্ট্রাইকাররা সাইড লাইনে বসে থাকেন। এসব নিয়ে পুরোনো অভিযোগ, কিন্তু সমাধানের কোনো বার্তা নেই। যেসব স্ট্রাইকার ভালো খেলছে তাদের খোঁজও নিতে যান না বিদেশি কোচরা। তাদের সঙ্গে যেসব দেশি কোচ থাকেন তারাও প্রতিভাবান ফুটবলারের সন্ধান দিতে চান না। তাহলে কীভাবে সংকট সমাধান হবে।
প্রথম বিভাগ ফুটবল, বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ যখন মাঠে চলে, তখন কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরা ছুটি কাটান পরিবারের সঙ্গে। তিনি ওখানে বসে ইউটিউবে খেলা দেখে জাতীয় দলের ফুটবলারদের পারফরম্যান্স যাচাই করেন। তাহলে নতুন কারা ভালো করছেন, সেটি জানবেন কীভাবে?
















