লামিন ইয়ামাল নিজেকে মেসির সাথে তুলনা করতে নারাজ। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে তার নৈপুণ্য দেখে সবার মনে পড়ে গেল তরুণ মেসির কথা। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—মাত্র ১৭ বছর বয়সে এমন অসাধারণ নৈপুণ্য কি সেই সময়ের মেসিও কল্পনা করতে পারতেন?
সেমিফাইনালের এই পারফরম্যান্সকে ঘিরে তাকে ‘একজন জিনিয়াস’, ‘একজন চিট কোড’ এবং ‘এক অসাধারণ প্রতিভা’ বলা হচ্ছে। বার্সেলোনা বনাম ইন্টার মিলানের ম্যাচটি ৩-৩ গোলে ড্র হলেও আলোচনার কেন্দ্রে কেবল একজন –বার্সার ১৭ বছর বয়সী ইয়ামাল।
বার্সেলোনার জার্সিতে নিজের শততম ম্যাচে ২২তম গোল করেছেন ইয়ামাল। প্রথমার্ধে তার পারফরম্যান্স দেখে অভিভূত হয়ে টিএনটি স্পোর্টসের বিশ্লেষক আলি ম্যাককয়স্ট বলেন, ‘আমি জীবনে একক ণৈপুণ্যের এমন ৪৫ মিনিট খেলা কখনো দেখিনি। সত্যি অবিশ্বাস্য।’
এত তো গেল ফুটবল বিশ্লেষকের মুগ্ধতার কথা।
ইয়ামাল এতটাই মনো মুগ্ধকর পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন যে, তার প্রশংসা করতে বাধ্য হয়েছেন প্রতিপক্ষের কোচ সিমোনে ইনযাঘি। সাধারণত প্রতিপক্ষের কোচের মুখ থেকে এমন প্রশংসা দেখা যায় না। গতকাল ইন্টার মিলানের কোচ বলেছেন, ‘লামিনে এমন এক প্রতিভা যা প্রতি ৫০ বছর পর একবার আসে। তাকে খুব কাছাকাছি থেকে দেখতে পেরে আমি সত্যি অভিভূত।
সে আমাদের বড় সমস্যা করেছিল। তার ওপর দ্বিগুণ চাপ প্রয়োগ করেও মনে হয়নি এটা যথেষ্ট ছিল।’
ইনযাঘির সঙ্গে সুর মিলিয়ে শিষ্যকে নিয়ে বার্সেলোনার কোচ হান্সি ফ্লিক বলেছেন, ‘সে বিশেষ, জিনিয়াস, বড় মঞ্চেও সে দেখাচ্ছে। সিমোনের কথা মতে যদি প্রতি ৫০ বছর পরই এমন প্রতিভা আসে তাহলে আমি খুশি যে সে বার্সেলোনার হয়ে খেলে।’
গতকাল ঘরের মাঠ এস্তাদিও অলিম্পিক লুইস কম্পানিওসে শুরুতে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে বার্সেলোনা।
ম্যাচের ২৪ মিনিটে ইয়ামাল দলকে ২-১ গোল এনে দেন একক নৈপুণ্যে। ডান প্রান্ত থেকে বলসহ প্রতিপক্ষের বস্কে ঢোকার আগে ইন্টার প্রথম গোলদাতা মার্কাস থুরামকে সাপের মতো আঁকাবাঁকা দৌড়ে তাকে ছিটকে ফেলেন। পরে হেনরিক মিখিতারিয়ানকেও ছিটকে ফেলেন ১৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
এরপর ইয়ামাল যে জায়গা থেকে শটটা নিলেন তাতে গোল হওয়ার সম্ভাবনাই ছিল কম। কেননা অসম্ভব এক জায়গা থেকে তিনি শটটা নিয়েছেন। সঙ্গে শট নেওয়ার চারপাশে প্রতিপক্ষের বেশ কজন খেলোয়াড়ও ছিল। তবে তার বাঁ পায়ের শটটা এতটাই মাপা ছিল যে বাঁ প্রান্তের পোস্টে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। ইন্টারের গোলরক্ষক ইয়ান সোমারের চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না।
শুধু ওই গোলটি নয়, গতকাল ৩-৩ ড্রয়ের ম্যাচে যতবারই বল পেয়েছেন ইয়ামাল তাকে সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের। এর মধ্যে যে শটে গোল পাননি সেটা আরও ভীষণ সুন্দর ছিল। দূর থেকে তার নেওয়া লুপের মতো শটটা যে বারে লেগে ফিরে আসে। আসলে শটটা না দেখলে তার সৌন্দর্য ঠিক মতো কেউই অনুভব করতে পারবেন না!
















