ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা মঙ্গলবার ইয়েমেনের রাজধানী সানার প্রধান বিমানবন্দরকে ‘সম্পূর্ণ অচল’ করে দিয়েছে। ওই এলাকা হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এতে তিনজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।
এদিনের হামলায় তিনটি যাত্রীবাহী বিমান, প্রস্থান হল, রানওয়ে ও একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন বিমানবন্দর সূত্র।
এ ছাড়া এএফপিকে এক কর্মকর্তা বলেন, বিমানবন্দরটি ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে’। অন্যদিকে হুতি জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছে এবং তারা এর প্রতিশোধ নেবে।
ইরান সমর্থিত হুতির যোদ্ধারা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দুই দিন পর এই হামলা হলো। ক্ষেপণাস্ত্রটি ইসরায়েলের প্রধান বিমানবন্দরের কাছে আঘাত হানে।
এর ফলে বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। নতুন এ হামলার আগে ইসরায়েল সোমবার ইয়েমেনের বন্দরনগরী হুদায়দাহতে হামলা শুরু করে এবং তার পর দিন সানার বিমানবন্দর লক্ষ্য করে আঘাত হানে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে, তাদেরকে ‘মূল্য দিতে হবে’। এক ভিডিও বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, যারা ইসরায়েলে হামলা চালায়, তারা ‘নিজেদের রক্তের জন্য নিজেরাই দায়ী’।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কবে, কিভাবে ও কোথায় প্রতিক্রিয়া জানাব, সে সিদ্ধান্ত আমরা প্রতিবার আমাদের বিবেচনায় গ্রহণ করি।’
অন্যদিকে হুতি ঘনিষ্ঠ এক টেলিভিশন চ্যানেলকে গোষ্ঠীটির শীর্ষ রাজনৈতিক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলি আল-হুতি বলেছেন, ইসরায়েলের হামলা ‘ব্যর্থ সন্ত্রাসবাদ’। তিনি আরো বলেন, ‘গাজায় সমর্থন অব্যাহত থাকবে, প্রতিশোধ আসছে এবং নেতানিয়াহুকে তার পদত্যাগের প্রস্তুতি নিতে হবে।’
বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ধ্বংস হওয়া তিনটি বিমানই ইয়েমেনিয়া এয়ারলাইনসের মালিকানাধীন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, তারা সানা বিমানবন্দরের রানওয়ে, বিমান ও ‘অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
তাদের অভিযোগ, হুতি বিমানবন্দর ব্যবহার করে ‘অস্ত্র ও যোদ্ধা পরিবহন’ করছিল।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরো জানিয়েছে, তারা সানার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও হামলা চালিয়েছে, যেগুলোকে হুতির জন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহ অবকাঠামো’ হিসেবে বর্ণনা করেছে তারা। এ ছাড়া শহরের উত্তরে অবস্থিত আল-ইমরান সিমেন্ট কারখানাকেও লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। এর আগে সোমবার হুদায়দাহ শহরে হামলায় আরেকটি সিমেন্ট কারখানাও আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
হুদায়দাহ বন্দরের অবস্থান লোহিত সাগরের তীরে এবং এটি এডেনের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম বন্দর। ইয়েমেনের প্রায় ৮০ শতাংশ খাদ্য আমদানি এই বন্দর দিয়ে প্রবেশ করে। সোমবারের হামলায় অন্তত চারজন নিহত ও আরো ৩৫ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে হুতি।
এই হামলার জন্য হুতি গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে একসঙ্গে দায়ী করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, মার্কিন বাহিনী এই অভিযানে অংশ নেয়নি।
হুতির ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র রবিবার ইসরায়েলের তেল আবিবের কাছে বেন গুরিওন বিমানবন্দরের মূল টার্মিনালের পাশে এক রাস্তার কাছে বিস্ফোরিত হয়। ইসরায়েলি জরুরি পরিষেবা বলছে, এতে ছয়জন আহত হয়। এই হামলার পর হুতি জানায়, তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘সম্পূর্ণ আকাশ অবরোধ’ আরোপ করবে এবং ইসরায়েল যদি গাজায় তাদের সামরিক অভিযান বাড়ায়, তবে তারা দেশটির বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্য করবে।
ইসরায়েল এর আগেও ইয়েমেনে হুতিকে লক্ষ্য করে কয়েক দফা বিমান হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে জানুয়ারিতে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বন্দর এবং ডিসেম্বরে সানা বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
















