নতুন যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে উত্তর কোরিয়া। শুক্রবার (২৩ মে) দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, জাহাজটির তলদেশ আঘাতপ্রাপ্ত হলেও সার্বিক ক্ষতি ‘গুরুতর নয়’।
চংজিন বন্দরে বুধবার জাহাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। তিনি এই দুর্ঘটনাকে ‘চূড়ান্ত অবহেলার কারণে সংঘটিত অপরাধমূলক ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর ভাষ্যমতে, উত্তর কোরিয়া ‘সাইড-লঞ্চ’ প্রক্রিয়ায় জাহাজটি পানিতে নামাতে ব্যর্থ হয়। ফলে জাহাজটি পানিতে একদিকে কাত হয়ে যায়।
তবে উত্তর কোরিয়ার কেসিএনএ জানায়, জাহাজটির তলদেশে কোনো আঘাত লাগেনি। বরং ডান পাশ কিছুটা ঘষা লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ‘রেসকিউ চ্যানেল’ দিয়ে সামান্য পরিমাণ পানি জাহাজে প্রবেশ করে।
জাহাজটির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে ২-৩ দিন এবং পাশের অংশ পুনর্গঠনে প্রায় ১০ দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কেসিএনএ।
এই দুর্ঘটনার জন্য ‘অভিজ্ঞতার ঘাটতি ও অপারেশনাল অসতর্কতাকে’ দায়ী করেছে পিয়ংইয়ং। ঘটনায় জড়িত হিসেবে চংজিনের জাহাজ কারখানার ম্যানেজার হং কিল হো-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন যুদ্ধজাহাজটি সম্প্রতি প্রদর্শিত ৫,০০০ টনের ‘চোয়ে হিয়ন’ শ্রেণির জাহাজের সদৃশ।
‘চোয়ে হিয়ন’–এ উত্তর কোরিয়ার ‘সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র’ রয়েছে বলে দাবি করেছে কিম প্রশাসন।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, রাশিয়ার সহায়তায় উত্তর কোরিয়া এ ধরনের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর বিনিময়ে রাশিয়ার কাছ থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা পাচ্ছে পিয়ংইয়ং।
















