সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবুধাবি থেকে সব ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। আর তাতেই হতাশ হয়ে পড়েছেন বিমানের নিয়মিত যাত্রীরা।
এই বাজেট এয়ারলাইন্সের টিকিট শুরু হতো মাত্র ১২৯ দিরহাম থেকে। রুট ও মৌসুমভেদে দামে হেরফের হলেও, এমন সাশ্রয়ী মূল্য বহু সাধারণ মানুষকে প্রথমবার বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ এনে দিয়েছিল।
দুবাইয়ের বাসিন্দা নোয়েল আব্রাহাম বললেন, ‘আমি দুবাই ইনভেস্টমেন্ট পার্কে থাকি। আবুধাবি বিমানবন্দরে যেতে ট্যাক্সিভাড়া লাগে ২০০ থেকে ২৫০ দিরহাম।
তিনি বলেন, এই ফ্লাইটগুলো ছিল অত্যন্ত বেসিক— না ছিল খাবার, না ছিল চেক-ইন লাগেজ। কিন্তু উইকেন্ড বা স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য ছিল একেবারে উপযুক্ত।
নোয়েল আরো বলেন, ‘আমার প্লেনে খাবার না খেলেও চলত। কারণ যেটুকু টাকা বাঁচত, সেটা দিয়ে গন্তব্যে গিয়ে মজা করতাম। উইজ এয়ারের এই অফারগুলো আমাদের জন্য ছিল বিশ্বের দরজা খুলে দেয়ার মতো।’
তিনি জানান, এই ঘোষণাটি আসার সময়ও ছিল অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত। ‘শীতকাল আসছে, অনেকে ভ্রমণের পরিকল্পনা করে রেখেছিল।
দিরার বাসিন্দা ও লজিস্টিক্স এক্সিকিউটিভ ফাহিম আরমার বলেন, কোভিডের পর উইজ এয়ারই তাকে প্রথমবারের মতো গালফ দেশের বাইরে ছুটি কাটানোর সুযোগ এনে দেয়।
ফাহিম বলেন, ‘২০২২ সালের এপ্রিল মাসে জর্জিয়ার টিকিট দেখি ৩৮০ দিরহাম রিটার্ন। আমি ভাবলাম হয়ত ভুল দেখছি। বন্ধুদের বললাম, সবাই এক বাক্যে রাজি হয়ে গেল। একদিনের মধ্যে আমরা বুক করে ফেলি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এটা বিলাসবহুল ট্রিপ ছিল না, আর আমাদের তা দরকারও ছিল না। আমরা হাঁটতাম, স্থানীয় খাবার খেতাম, আর শহরটা উপভোগ করতাম। টিকিটের দামটা আমাদের জন্য সবকিছু সম্ভব করেছিল।’
তিনি বলেন, ‘এটা শুধু সস্তা ভ্রমণ না, এটা ছিল সুযোগ—আর সে সুযোগ হয়তো এখন হারিয়ে যাচ্ছে।’
সবচেয়ে চমকপ্রদ যাত্রী ছিলেন দুবাইয়ের ট্যাক্সি চালক মুজাম্মিল শেখ। তিনি জীবনে প্রথমবার বিদেশ যান উইজ এয়ারের সুবাদে—গন্তব্য ছিল বাকু, আজারবাইজান। রিটার্ন টিকিটের দাম ছিল মাত্র ৪০০ দিরহাম।
তিনি বলেন, ‘আমার কখনোই মনে হয়নি আমি কোনোদিন দেশের বাইরে যেতে পারব। অনেক যাত্রী আমার ট্যাক্সিতে উঠে জর্জিয়া, আর্মেনিয়া বা বাকুর গল্প করতেন। আমি চুপচাপ শুনতাম, ভাবতাম—একদিন আমিও যাব।’
মুজাম্মিল বলেন, ‘আমি টিকিটের কম দাম দেখে এক বন্ধুকে বললাম। সেও রাজি হয়ে গেল। আমরা একসঙ্গে চার দিনের জন্য বাকু যাই। কোনো বিলাসিতা ছিল না, শুধু ঘোরাঘুরি, পাহাড় দেখা, স্থানীয় খাবার খাওয়া—কিন্তু এটা ছিল জীবনের সবচেয়ে সুখের মুহূর্ত।’
















