সেনেগালে থাকা ফ্রান্সের বৃহত্তম ঘাঁটি ক্যাম্প গেইল ও তাদের বিমানঘাঁটি দাকার বিমানবন্দর বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। এ অনুষ্ঠানে সেনেগালের চিফ অব জেনারেল স্টাফ এমবায়ে সিসে, আফ্রিকায় ফরাসি বাহিনীর প্রধান জেনারেল প্যাস্কাল ইয়ান্নিসহ দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ পদক্ষেপের মাধ্যমে সেনেগালে ফরাসি সেনাবাহিনীর ৬৫ বছরের উপস্থিতির অবসান হলো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকার বিভিন্ন সাবেক উপনিবেশ ফ্রান্সের সামরিক উপস্থিতির বিরোধিতা করায় ফ্রান্স একের পর এক ঘাঁটি ছেড়ে যাচ্ছে। একই সময়ে সাহেল অঞ্চলে সহিংসতা বাড়ছে। মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজারজুড়ে সহিংসতা দক্ষিণে গিনি উপসাগরীয় দেশগুলোকে হুমকির মুখে ফেলছে।
সেনেগালি বাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা প্রায় ৩৫০ জন ফরাসি সেনা দেশটি ছেড়ে যাচ্ছেন। মার্চ মাসে শুরু হওয়া এ প্রত্যাহারপ্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার। জেনারেল সিসে বলেছেন, ‘এ হস্তান্তর আমাদের দুই দেশের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ সামরিক ঐতিহ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।’
অন্যদিকে জেনারেল ইয়ান্নি বলেন, ‘আমরা আমাদের দুই দেশের সামরিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় শুরু করছি।
গত বছর নির্বাচনে বড় জয় পেয়ে প্রেসিডেন্ট বাসিরু ডিওমায়ে ফায়ে দেশটিতে নাটকীয় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ফ্রান্সকে ২০২৫ সালের মধ্যে সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে বুরকিনা ফাসো, মালি ও নাইজারের মতো সামরিক সরকার পরিচালিত বেশির ভাগ সাবেক ফরাসি কলোনি ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। তবে ফায়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি ফ্রান্সের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে চান।
১৯৬০ সালে স্বাধীনতা লাভের পর সেনেগাল সব সময় ফ্রান্সের অন্যতম ঘনিষ্ঠ আফ্রিকান মিত্র ছিল। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সরকার ফ্রান্সের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় প্যারিস তার সাবেক উপনিবেশগুলোতে তাদের সামরিক ঘাঁটি বন্ধ অথবা সেনা সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে আইভরি কোস্টে একমাত্র ঘাঁটি ফিরিয়ে দিয়ে সেখানে তাদের কয়েক দশকের সামরিক উপস্থিতি শেষ করেছে ফ্রান্স। এর এক মাস আগে তারা চাদের কসেই ঘাঁটি হস্তান্তর করেছে।
২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বুরকিনা ফাসো, নাইজার ও মালিতে সামরিক অভ্যুত্থানের ফলে নতুন সরকার ফ্রান্সের চার হাজার ৩০০ সেনা প্রত্যাহার করেছে। এখন এই তিন দেশ ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সাহেলের সংঘাত মোকাবেলায় রাশিয়ার সহায়তা নিচ্ছে।
সর্বশেষে এখন শুধু আফ্রিকার ছোট দেশ জিবুতিতে স্থায়ীভাবে ফরাসি সেনা ঘাঁটি থাকবে। সেখানে দেড় হাজার সেনা নিয়ে আফ্রিকান সদর দপ্তর গড়ে তুলতে চায় ফ্রান্স।
সূত্র : আলজাজিরা
















