ইউক্রেনের এক সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকারকে শনিবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
৫৪ বছর বয়সী আন্দ্রিয় পারুবিয় লভিভ শহরে নিহত হন। তিনি আগে ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব হিসেবেও কাজ করেছেন।
এ ছাড়া তিনি ২০০৪ ও ২০১৪ সালের দেশটির ইউরোপীয়পন্থী আন্দোলনের একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ছিলেন।
প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি এ ঘটনাকে ‘ভয়ংকর হত্যা’ হিসেবে নিন্দা করে বলেছেন, তদন্তে ‘সব প্রয়োজনীয় শক্তি ও উপায়’ ব্যবহৃত হবে।
প্রসিকিউটররা ইতিমধ্যে হত্যা মামলায় তদন্ত শুরু করেছে এবং পুলিশ এখনো বন্দুকধারীকে খুঁজছে। তবে তারা এখনো এ হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য উদ্দেশ্য উল্লেখ করেনি।
প্রসিকিউটর জেনারেলের অফিস জানিয়েছে, অপরিচিত একজন ব্যক্তি আন্দ্রিয় পারুবিয়কে লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই এই রাজনীতিবিদ মারা যান।
ইউক্রেনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সুস্পিলনে অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বন্দুকধারী ডেলিভারিম্যানের পোশাক পরে ছিল এবং একটি ইলেকট্রিক বাইকে বসে ছিল। এ ছাড়া ইউক্রেনীয় গণমাধ্যমে ঘটনাস্থলের ছবি প্রকাশিত হয়েছে, তবে সেগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
ছবিগুলোতে রাস্তায় রক্তাক্ত মুখসহ একজন মানুষকে শুয়ে থাকতে দেখা গেছে।
এদিকে পারুবিয়র প্রতি কিছু ইউক্রেনীয় কর্মকর্তার শ্রদ্ধার বার্তায় রাশিয়ার প্রতি সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিদের হত্যার অভিযোগ করেছে।
‘দেশপ্রেমিক’
যুবক অবস্থায় পারুবিয় সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে ইউক্রেনের স্বাধীনতার জন্য প্রচারণা চালিয়েছিলেন। ইতিহাসবিদ হিসেবে শিক্ষিত পারুবিয় রাশিয়ার ভাষার পরিবর্তে ইউক্রেনীয় ভাষার ব্যবহারে অন্যতম সমর্থক ছিলেন, যা একটি অত্যন্ত রাজনৈতিক বিষয়।
২০১৪ সালের মাইদান বিক্ষোভকালে তিনি বিরোধী আত্মরক্ষা বাহিনীর ‘কমান্ডার’ ছিলেন। সেই একই বছরে তিনি একটি গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন বলে ইউক্রেনীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল। সেই সময়ের ক্ষমতাচ্যুত ইউক্রেনীয় নেতা ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ রাশিয়া পালিয়ে যাওয়ার পর পারুবিয় কয়েক মাস জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদে কাজ করেন।
প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্বিরিডেনকো পারুবিয়কে ‘দেশপ্রেমিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যিনি ‘আমাদের রাষ্ট্রের নির্মাণে বড় অবদান রেখেছেন’। এ ছাড়া বর্তমান পার্লামেন্ট স্পিকার রাসলান স্টেফানচুক বলেছেন, পারুবিয় ‘খুব কম বয়স থেকে ইউক্রেনের স্বাধীনতার জন্য লড়াইতে তার জীবন উৎসর্গ করেছিলেন’। পাশাপাশি আইন প্রণেতা আইরিনা জেরাশচেঙ্কো বলেছেন, তিনি ‘আধুনিক ইউক্রেনের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন ছিলেন’।
















