সিরিয়ায় দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদের পতনের পর প্রথম সংসদ নির্বাচনে এই রবিবার একটি আসনের জন্য প্রার্থী হয়েছেন সিরীয়-আমেরিকান ইহুদি হেনরি হামরা।
পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত হলে হামরা হবেন ১৯৪০-এর দশকের পর থেকে প্রথম ইহুদি প্রতিনিধি, যিনি সিরিয়ার সংসদে প্রবেশ করবেন।
দামেস্কের পুরনো শহরের ইহুদি কোয়ার্টারে শুক্রবার এএফপির একজন আলোকচিত্রী দেয়ালে হামরার ছবি ও সিরীয় পতাকা সংবলিত পোস্টার দেখতে পান। পোস্টারে লেখা ছিল, ‘দামেস্কের প্রার্থী, সিরিয়ান পিপলস অ্যাসেম্বলি।
’
২১০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ স্থানীয় কমিটি দ্বারা নির্বাচিত হবে, আর বাকি অংশ মনোনয়ন দেবেন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। সমালোচকরা এই প্রক্রিয়াকে গণতান্ত্রিক নয় বলে অভিহিত করেছেন।
গত ডিসেম্বর প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধ শেষে শারার ইসলামপন্থী নেতৃত্বাধীন বাহিনী আসাদকে উৎখাত করে ক্ষমতায় আসার পর দেশটির ক্ষয়িষ্ণু ইহুদি সম্প্রদায় আবারও সিরিয়ায় প্রত্যাবর্তন শুরু করেছে। নতুন কর্তৃপক্ষ সংখ্যালঘুদের প্রতি সদর্থক ইঙ্গিতও দিয়েছে।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে হামরা ও তার বাবা রব্বি ইউসুফ হামরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে দামেস্কে আসেন এবং তিন দশকেরও বেশি সময় পর পুরনো শহরের ফারাঞ্জ সিনাগগে একদলীয় প্রার্থনায় অংশ নেন।
নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র নাওয়ার নাজমেহ এএফপিকে বলেন, ‘হেনরি হামরা আনুষ্ঠানিক প্রার্থী এবং অন্য যেকোনো প্রার্থীর মতোই তার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।’
তার প্রচারণা অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক লিফলেটে লেখা রয়েছে, ‘একটি সমৃদ্ধ, সহনশীল ও ন্যায্য সিরিয়ার পথে।’
হামরার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে সিরীয় ইহুদিদের একত্রিত করা এবং দেশের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষা।
ইতিহাসবিদ সামি মুবাইয়েদ জানান, ১৯৪৭ সালে সিরিয়ার ইহুদি সম্প্রদায় থেকে সর্বশেষ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সম্প্রদায়টির নেতা বাখুর চামনতুন বলেন, ‘সিরিয়ার নতুন সরকারের অধীনে সংসদে ইহুদিদের প্রত্যাবর্তন একটি ইতিবাচক ঘটনা।’
হাফেজ আল-আসাদের শাসনামলে (আসাদের বাবা) ইহুদি সম্প্রদায়কে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্কও বজায় ছিল। তবে তাদের চলাফেরার স্বাধীনতা কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছিল এবং ১৯৯২ সাল পর্যন্ত বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ছিল।
পরে তাদের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার থেকে কমে হাতেগোনা কয়েকজন হয়ে যায়, বর্তমানে সম্প্রদায়ের কার্যক্রম দেখাশোনা করছেন চামনতুন।
নতুন সরকার সম্প্রদায়টির সম্পত্তি রক্ষার অঙ্গীকার করেছে। গত মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে প্রেসিডেন্ট শারা সিরীয় ইহুদিদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।
















