জন্মহার ক্রমাগত কমে যাওয়ায় জনসংখ্যা সংকট মোকাবিলায় ব্যতিক্রমী পরিকল্পনা নিয়েছে রাশিয়া।দেশটির সরকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাতে নির্দিষ্ট সময় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে, যা ইতোমধ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ায় তরুণ-তরুণীদের মধ্যে সন্তান ধারণে অনীহা বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবে জন্মহার নেমে এসেছে কয়েক দশকের সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
<
এই প্রেক্ষাপটে সরকার মনে করছে, রাতের বেলায় অতিরিক্ত স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে পারিবারিক সময় ও দাম্পত্য সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, রাতে স্ক্রিনমুখী জীবন থেকে মানুষকে কিছুটা দূরে রাখলে তারা পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেবে এবং পরিবারকে বেশি সময় দেবে। নীতিনির্ধারকদের ধারণা, এতে দাম্পত্য ঘনিষ্ঠতা বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে সন্তান জন্মদানে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে পরিকল্পনাটি নিয়ে সমালোচনাও কম নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মহার কমার মূল কারণ প্রযুক্তিনির্ভরতা নয়, বরং আবাসন সংকট, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সন্তান লালন-পালনের খরচ। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, রাতে কাজ করা কর্মজীবী মানুষ, অনলাইন শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার ও জরুরি সেবা দানকারীদের জন্য এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হবে।
এর পাশাপাশি জনসংখ্যা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনার কথাও ভাবছে। একবার সন্তান নিলে ভাতা প্রদান, বিয়ের পর দম্পতিদের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা এবং মাতৃত্ব কালীন সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এমনকি সোভিয়েত যুগের ‘মাদার হিরোইন’ পুরস্কারও পুনরায় চালু করা হয়েছে।
ফেডারেল স্টেট স্ট্যাটিস্টিকস সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে রাশিয়ায় জন্ম নিয়েছে মাত্র ১২ লাখ ২২ হাজার শিশু, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বনিম্ন। ২০১৪ সালের তুলনায় জন্মহার কমেছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এই পরিস্থিতিতেই জনসংখ্যা বাড়াতে সরকারকে নিতে হচ্ছে এমন বিতর্কিত ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
















