ভারত বাংলাদেশের দিকে কুদৃষ্টি দিলে পাকিস্তানের মিসাইল জবাব দেবে: পাকিস্তানের রাজনীতিবিদ
পাকিস্তান মুসলিম লিগের যুব দলের প্রধান কামরান সাঈদ উসমানি আজ ফেসবুকে এক ভিডিওবার্তায় কথা বলেছেন। ছবি: স্ক্রিনগ্র্যাব
পাকিস্তান মুসলিম লিগের যুব দলের প্রধান কামরান সাঈদ উসমানি আজ ফেসবুকে এক ভিডিওবার্তায় কথা বলেছেন। ছবি: স্ক্রিনগ্র্যাব
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগের যুব দলের প্রধান কামরান সাঈদ উসমানি বলেছেন, ভারত যদি বাংলাদেশের দিকে কুদৃষ্টি দেয়, তাহলে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও পাকিস্তানের মিসাইল জবাব দেবে। বাংলাদেশে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত – ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র – শরীফ ওসমান হাদিকে নিয়ে আজ নিজের স্বীকৃত ফেসবুক পেইজে এক ভিডিওবার্তায় এসব কথা বলেছেন সাঈদ উসমানি।
নিজের স্বীকৃত ফেসবুক পেইজের ‘ইন্ট্রো’তে অন্য অনেক পরিচয়ের মধ্যে নিজেকে ‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান বন্ধুত্ব’ প্রকল্পের আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয়ও করাচ্ছেন সাঈদ উসমানি। সেই পেইজে আজ ‘কেন ওসমান হাদি?’ শিরোনামে ভিডিওতে তিনি বলেছেন, ‘২০২১ সালে আমি যখন এই ক্যাম্পেইন শুরু করেছিলাম, তখন আমার পাশে কেউ ছিল না। এখন আলহামদুলিল্লা বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুই দেশই আমার সঙ্গে আছে।’
‘আজ আমি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেব না’ জানিয়ে শুরু ভিডিওবার্তায় ওসমান হাদির বাংলাদেশকে কারও অধীনে দেখতে না চাওয়ার ইচ্ছার কথা বর্ণনা করেছেন সাঈদ উসমানি। এরপর বলেছেন, ‘কিন্তু এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যাটা হলো যখনই কোনো তরুণ মুসলিম সামনে এগিয়ে আসে, জনপ্রিয় আওয়াজ হয়ে ওঠে, তাঁকে চাপিয়ে রাখা হয়। এই ভারতীয় মুক্তিযোদ্ধারা তাঁদেরকে দাসত্ব থেকে মুক্ত হতে দেয় না, যাতে তাঁদের রক্ত শুষে নিতে পারে। সেটা বাংলাদেশে পানি বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে হোক কিংবা কোনো গণ্ডগোল লাগিয়ে মুসলিমের সঙ্গে মুসলিমের লড়াই বাঁধিয়ে দিয়ে। কিন্তু এখন মুসলিম তরুণরা তাদের এই ষড়যন্ত্র খুব ভালোভাবে বুঝতে পারছে। এখন বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের প্রতিটি বাচ্চাই ওসমান হাদি। ওসমান হাদিকে মেরে ফেলা হয়েছে, কিন্তু তাঁর ভাবনাকে মেরে ফেলা যায়নি।’
এরপর বাংলাদেশকে নিয়ে সাঈদ উসমানি বলেছেন, ‘আজ বাংলাদেশের মানুষ ভারতের আজাদারি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। আমি বাংলাদেশে আমার ভাই-বোনদের বলতে চাই, আমরা আপনাদের পাশে আছি। পাকিস্তান, পাকিস্তানের মানুষ আর পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আপনাদের সঙ্গে আছে।’
ভারতের নাম সরাসরি না বললেও এরপর সাঈদ উসমানি ‘ব্রাক্ষ্মণ রাষ্ট্র’কে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘যদি কেউ বাংলাদেশের ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করে বা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ করে, তাহলে পাকিস্তানের সচেতন জনতা আপনাদের পাশে থাকবে। আমি এখন ব্রাক্ষণ রাষ্ট্রকে পরিষ্কার বলে দিতে চাই, যদি কেউ বাংলাদেশের দিকে কুদৃষ্টিতে তাকায়, তাহলে পাকিস্তানের মানুষ, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আর আমাদের মিসাইল কিন্তু আপনাদের থেকে খুব বেশি দূরে না।’
ভারতের নাম না নিলেও কথাটা যে ভারতকে উদ্দেশ করেই বলেছেন সাঈদ উসমানি, সেটা পরিষ্কার হয়ে যায় তাঁর পরের কথায়, ‘…অপারেশন মার্কা-এ-হকের সময়ে বানিয়ান-উল-মুরসুসে যেভাবে আমরা আপনাদের হার মানতে বাধ্য করেছি, সেটা আরেকবার করব, এ আর এমন কী!’ প্রসঙ্গত, গত মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময়ে ভারতের বিমান হামলার যে জবাব দিয়েছিল পাকিস্তান এবং সেখানে ভারতের কয়েকটি যুদ্দবিমান ভূপাতিত করার যে দাবি করে তারা, সেই অপারেশনকে ‘মার্কা-এ-হক’ হিসেবে অভিহিত করে পাকিস্তান।
ভারতের প্রতি হুমকির পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতির ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা চুক্তির কথাও এনেছেন দেশটির শাসক দলের যুব শাখার প্রধান সাঈদ উসমানি, ‘এখন বাংলাদেশের উচিত শিক্ষা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি আর প্রতিরক্ষায় পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করা উচিত।’
















