রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বুধবার এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে তারা দাবি করেছে, এই সপ্তাহে ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একটি বাসভবনে হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল। কিয়েভের অস্বীকারকে চ্যালেঞ্জ জানাতে তারা কথিত একটি ভূপাতিত ড্রোনের দৃশ্য দেখিয়েছে।
কিয়েভের বক্তব্য, অভিযোগ সমর্থনে কোনো প্রমাণ দেয়নি মস্কো—আর রাশিয়া এই ‘কথিত হামলার গল্প’ বানিয়েছে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি ঠেকাতে। পশ্চিমা কয়েকটি দেশের কর্মকর্তারাও রাশিয়ার বর্ণনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেছেন, আদৌ কোনো হামলা হয়েছিল কি না—তা প্রশ্নসাপেক্ষ।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যে ভিডিও প্রকাশ করেছে, তাতে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আলেকজান্ডার রোমানেনকভ ব্যাখ্যা দেন—নভগোরোদ অঞ্চলে পুতিনের এক বাসভবনে হামলার পরিকল্পনা ইউক্রেন কিভাবে করেছে বলে মস্কো বিশ্বাস করে।
রোমানেনকভ বলেন, ইউক্রেনের সুমি ও চেরনিহিভ অঞ্চল থেকে ৯১টি ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। ‘পরিপূর্ণভাবে পরিকল্পিত’ এই হামলায় রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সবগুলো ভূপাতিত করেছে, কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং কেউ আহতও হয়নি।
মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, এক রুশ সেনা একটি বিধ্বস্ত যন্ত্রের ধ্বংসাবশেষের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন।
তিনি দাবি করছেন, এটি ইউক্রেনের ‘চাকলুন-ভি’ ড্রোন, যাতে ছয় কেজি বিস্ফোরক ছিল—যা বিস্ফোরিত হয়নি।
তবে এই যন্ত্রটির লক্ষ্যবস্তু কী ছিল তা কীভাবে তারা নিশ্চিত হলো, মন্ত্রণালয় তা ব্যাখ্যা করেনি।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হেওর্হি তিখিই এই ফুটেজকে ‘হাস্যকর’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, কিয়েভ ‘পুরোপুরি নিশ্চিত—এমন কোনো হামলা হয়নি।’
রয়টার্স ধ্বংসাবশেষ দেখানো ফুটেজটির স্থান ও সময় নিশ্চিত করতে পারেনি।
ধ্বংসপ্রাপ্ত যন্ত্রটির মডেলও তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যায়নি।
অন্য একটি ফুটেজে দেখা যায়, নভগোরোদ অঞ্চলের একটি গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে চিহ্নিত ইগর বোলশাকভ বলছেন, তিনি বিমান প্রতিরক্ষা রকেট সক্রিয় হতে শুনেছেন।
















