জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, বাংলাদেশ এখন স্পষ্টতই দুই ভাগে বিভক্ত। এক ভাগ ভারতীয় গোলামি করার জন্য অপেক্ষা করছে। আরেকপক্ষ আজাদী আকাঙ্ক্ষায় বসে আছে। একপক্ষ চাঁদাবাজিতে লিপ্ত। এক পক্ষ ফ্যামিলি কার্ডের নামে চাঁদাবাজির নতুন লাইসেন্স দেওয়ার মাধ্যমে জনগণের অর্থ লুটপাটের নতুন ভিশন এবং প্ল্যান নিয়ে মাঠে নেমেছে। আমরা বলছি-এই ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ড না দিয়ে এন্টি চাঁদাবাজির কোনো কার্ড থাকলে সেটা জনগণকে দেন। যাতে এটা দেখাইয়া চান্দা দেওয়া না লাগে।সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দিনাজপুরের পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে দিনাজপুর-৫ আসনের ১১ দলীয় ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থী এনসিপির ডা. মো. আব্দুল আহাদের পক্ষে এক নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিবিদরা ছাত্র ও যুব সমাজকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে একটি প্রজন্মকে নেশা ও অনৈতিকতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। এর ফলেই সমাজে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনের পর এই এলাকায় হয় মাদক সম্রাটদের অস্তিত্ব থাকবে, নয়তো ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মীরাই মাঠে থাকবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, কোনো কোনো রাজনৈতিক দল এখন আমার দেশের কৃষকদের কৃষক কার্ড দেওয়ার কথা বলে। কিন্তু আমরা যদি অতীত অভিজ্ঞতার দিকে তাকাই-বিগত সময়ে তারা যখন ক্ষমতায় ছিল তখন সারের ন্যায্যদাম পাওয়ার জন্য যখন এ দেশের কৃষকরা মাঠে নেমেছিল-সেই কৃষকদের তারা গুলি করে হত্যা করেছিল। বিদ্যুতের জন্য যখন বিভিন্ন এলাকার মানুষ আন্দোলন করেছিল-তখন সেই মানুষদের ওপর প্রশাসন তাদের ওপর গুলি করেছিল, শহীদ করেছিল। বাংলাদেশের মানুষ ইতিহাস ভুলে যায় নাই। আপনাদের নানান স্বপ্ন, নানান রঙ্গিন কার্ড দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ এবার তাদের ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে না। গত ১৭ মাসে আপনাদের কার্যক্রম দেখেই মানুষ ইতিমধ্যেই প্ল্যান করে ফেলেছে-কাকে ভোট দিতে হবে, আর কাকে ভোট দিতে হবে না।
তিনি বলেন, আমরা ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করেছি-এই জোট নির্বাচিত হলে এক মাসের মধ্যে আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সব শহীদসহ সর্বশেষ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার করা হবে।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, আগামী নির্বাচনে যদি কেউ আবারও কেন্দ্র দখলের মাধ্যমে ও ভয়ভীতির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পাঁয়তারা করে, তাহলে তাদের পরিণতিও দিল্লিতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার মতো হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ১১ দলীয় ঐক্যজোট মনোনীত দিনাজপুর-৫ আসনের প্রার্থী ডা. মো. আব্দুল আহাদ নির্বাচিত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উদ্যোক্তা সেল গঠন, নারীদের জন্য পৃথক স্বাস্থ্যসেবা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
সমাবেশে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা সারমিন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পার্বতীপুর উপজেলা শাখার আমির ইউসুফ আলী, উপজেলা সেক্রেটারি আবু সায়েম শাহ, উপজেলা বাইতুল মাল সেক্রেটারি যুব সভাপতি গোলাম মুক্তাদী মুন্না, নায়েবে আমির রেজাউর রহমান মোল্লা, পৌর বায়তুল মাল সেক্রেটারি তৌহিদুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, উপজেলা যুব বিভাগসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
















