ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ঘাঁটিতে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। দেশটির সঙ্গে যোগ দিয়েছে লেবাবনের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী। দুই দেশ সমন্বিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের স্বার্থে আঘাত হানছে। তবে থেমে নেই ইসরায়েলও। দেশটি তেহরানের পাশাপাশি লেবাননে হিজবুল্লাহর স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধ এখন উপসাগরীয় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।গতকাল ইরান সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, দুবাইয়ে ফের হামলা চালিয়েছে। প্রথমবারের ক্ষেপনাস্ত্র গেছে তুরস্কের দিকে। যদিও ন্যাটো বাহিনী সেই ক্ষেপনাস্ত্র প্রতিহত করতে সম্মত হয়েছে। এরই মধ্যে গতকাল ভারত মহাসাগরে ইরানের একটি জাহাজে হামলা চালিয়ে ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে অন্তত ৮০ জনের প্রাণ গেছে।ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির এক উপদেষ্টা বলেছেন, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করার কোনো ইচ্ছা রাখে না এবং দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। মোহাম্মদ মোখবার বলেন, আমাদের আমেরিকানদের ওপর কোনো আস্থা নেই এবং তাদের সঙ্গে আলোচনার কোনো ভিত্তি নেই। আমরা চাইলে যতদিন খুশি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারব।ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের নতুন দফায় হামলার জবাবে পালটা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। গত কয়েক ঘণ্টায় ইসরায়েলে সতর্ক সংকেত বাজিয়ে জানানো হয় যে, ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, যেসব ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রজেক্টাইল ছোঁড়া হয়েছে সেগুলো আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে। ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের (আইএআই) সদরদপ্তর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানপন্থি লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। একই সঙ্গে ইসরায়েলের ড্রোন নিয়ন্ত্রণকারী একটি সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি। এছাড়া ভোরের কিছু আগে উত্তর ইসরায়েলের একটি ‘ড্রোন নিয়ন্ত্রণ ঘাঁটিতে’ নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলেও পৃথক এক বিবৃতিতে জানায় ইরানপন্থি গোষ্ঠীটি।
একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হচ্ছে কুয়েত। কাতারকে লক্ষ্য করে ইরান দুইটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার বিকেলে দুবাইয়ে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি কনস্যুলেট ভবনে ইরান ড্রোন হামলা চালানোর পর সেখানে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। দু’টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে সৌদি আরব। গতকাল দেশটিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল শোধানাগার আরামকোতে আবারও হামলা চালিয়েছে ইরান। প্রথমবারের মতো তুরস্কের দিকে ক্ষেপনাস্ত্র গেছে। গতকাল তুরস্কের আকাশসীমার দিকে যাচ্ছিল একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। কিন্তু তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সেটিকে ধ্বংস করে দেয় আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো। ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছেশ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারত মহাসাগরে ইরানি জাহাজে হামলার পর অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন। শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, জাহাজটির নথিপত্র অনুযায়ী প্রায় ১৮০ জন আরোহী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে তারা ইরানের নৌবাহিনীর জাহাজ ‘আইরিস দেনা’ থেকে বিপদসংকেত পাওয়ার পর ৩২ জনকে উদ্ধার করে। ৬৮ জন এখনো নিখোঁজ বলে জানা গেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, ভারত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজকে ডুবিয়ে দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিজেকে নিরাপদ মনে করেছিল। তিনি বলেন, জাহাজটি টর্পেডো দিয়ে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোন ইরানি জাহাজটি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল তা উল্লেখ করেননি হেগসেথ।ইরানে ২৮ েফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৯৭ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি(এইচআরএএনএ)। ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা নতুন করে ইরানে হামলা শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, শনিবার অভিযান শুরুর পর তারা ইরানের দুই হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। তেহরানের ডজনখানেক পুলিশ ও বাসিজ সদর দফতরকে লক্ষ্যবস্তু করে ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানে প্রায় দুই হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে। মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসান্তের দাবি, ইরানের আকাশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন আমেরিকার হাতে। গতকাল পূর্ব তেহরানে ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। এদিকে লেবাননে আবার বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। দেশটি জানিয়েছে, তারা ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কিত স্থানগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দাবি, ইরান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত তা মোকাবিলা করতে পেরেছেন। তিনি আরো বলেন, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র সেই ইউনিটের নেতাকে খুঁজে বের করে হত্যা করেছে যে ইউনিট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তিনি বলেন, এটি কখনো একটি ন্যায্য লড়াই হওয়ার কথা ছিল না, এবং এটি একটি ন্যায্য লড়াইও নয়। তিনি আরো বলেন, যখন তারা পতনশীল তখন আমেরিকা ইরানকে ঘুষি মারছে।
















