খাগড়াছড়িতে পাহাড়খেকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার-এর শেষের পাতায় ‘খাগড়াছড়িতে তিন মাসে আট পাহাড় বিলীন!’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামকে ডেকে এ নির্দেশ দেন।সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি সভা করেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। ‘পাহাড়-টিলা কাটা বন্ধে করণীয় নিরূপণ’ শীর্ষক এ ভার্চুয়াল সভায় খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।তদন্ত কমিটিকে পাহাড়খেকোদের শনাক্ত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, বন বিভাগ বা পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারকে দ্রুত কমিটি গঠন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটি গঠনের পর ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রায়হান কাওছার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মো. জিয়া উদ্দিন, পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালভাবে অংশ নেন।
সভায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং বিভিন্ন প্রস্তাব দেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়া উদ্দিন পাহাড় কাটা বন্ধে এক্সকাভেটর ব্যবহারে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেন।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে অভিযানে সেনাবাহিনী ও বিজিবিকে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় লজিস্টিক সহায়তা ও অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান পরিবেশ আইনে পুলিশকে মামলা করার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করেন। রামগড় উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাজী শামীম বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৬(খ)-এর ৯ ধারা সংশোধন প্রয়োজন। কারণ, অধিকাংশ সময় অভিযানের খবর পেয়ে পাহাড়খেকোরা পালিয়ে যায়, ফলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এছাড়া তিনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় ১০-১৫ জন পুলিশ সদস্য রাখার এবং পাহাড় কাটা মাটি পরিবহনকারীদের বিরুদ্ধেও শাস্তির বিধান রাখার প্রস্তাব দেন।
এদিকে, জরুরি ভার্চুয়াল সভা শেষে বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মানিকছড়ি উপজেলার কালাপানি মৌজার যোগ্যছোলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খাড়িছড়া মাস্টারপাড়া এলাকায় পাহাড় কাটার স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
















