যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিজের খালাতো ভাইয়ের প্রেমিকা ও ৪ বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে দণ্ডিত এক আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে। ফ্লোরিডায় এটি চলতি বছরের সপ্তম মৃত্যুদণ্ড।মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে ফ্লোরিডার স্টার্কের কাছে ফ্লোরিডা স্টেট প্রিজনে ৪৭ বছর বয়সী রিচার্ড নাইটকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তাকে তিনটি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল।২০০২ সালের জুনে ওডেসিয়া স্টিফেনস এবং তার চার বছরের মেয়ে হ্যানেসিয়া মালিংসকে হত্যার দায়ে প্রথম-ডিগ্রি খুনের অভিযোগে নাইটের মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল।আদালতের নথি অনুসারে, ২০০০ সালে নাইট তার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে ফোর্ট লডারডেলের কাছে কোরাল স্প্রিংসে থাকতেন। সেখানে চাচাতো ভাইয়ের প্রেমিকা ওডেসিয়া স্টিফেনসের সঙ্গে তার প্রায়ই ঝগড়া হতো।
ঘটনার দিন চাচাতো ভাই কাজে গেলে স্টিফেনস নাইটকে পরের দিন বাসা ছেড়ে চলে যেতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নাইট প্রথমে স্টিফেনসকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করেন এবং পরে শিশু মেয়েটিকেও হত্যা করেন।
ফ্লোরিডায় রেকর্ড মৃত্যুদণ্ড
২০২৫ সালে ফ্লোরিডায় মোট ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, যা ১৯৭৬ সালে মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালের পর এক বছরে সর্বোচ্চ। রিপাবলিকান গভর্নর রন ডিসান্টিসের শাসনামলে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর আগে ২০১৪ সালে এক বছরে সর্বোচ্চ ৮টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল।
চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত মোট ৪৭টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।
কীভাবে কার্যকর হয় ইনজেকশন
ফ্লোরিডার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণত তিন ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। প্রথমে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয় যাতে ব্যক্তি অচেতন হয়ে পড়েন। তারপর পেশি পক্ষাঘাতের ওষুধ এবং সবশেষে হৃদ্যন্ত্র বন্ধ করে দেওয়ার ওষুধ প্রয়োগ করা হয়।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় নাইটের হাত বেঁধে রাখা হয় এবং শরীরে আইভি লাইন সংযুক্ত করা হয়। ওষুধ দেওয়ার পর তিনি চোখ বন্ধ করে স্থির হয়ে যান এবং প্রায় ১০ মিনিট পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
















