এক দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ার সাফা কবিরের। ছোট পর্দায় নিজেকে নানাভাবে মেলে ধরেছেন, পেয়েছেন দর্শকের ভালোবাসাও। রোজার ঈদে বেশ কয়েকটি নাটকে দেখা গেছে। ঈদুল আজহায়ও সে ধারা অব্যাহত থাকবে।
অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন ইমরুল নূর
কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। বেড়াতে গিয়ে কাজ, নাকি কাজের জন্য গিয়ে বেড়ানো?
কাজের জন্যই যাওয়া। তিনটি নাটকের শুটিং করেছি সেখানে। দুটির পরিচালক মাবরুর রশীদ বান্নাহ, আরেকটি বানিয়েছেন মাহমুদ মাহিন।
সবগুলো নাটকেই সহশিল্পী মুশফিক আর ফারহান। এগুলো কোরবানি ঈদে আসার কথা রয়েছে।
ঈদুল আজহা ঘিরে ব্যস্ততা কেমন?
এখন তো আগের মতো অনেক বেশি কাজ করা হয় না। কমিয়ে দিয়েছি।
তিন-চারটার মতো নাটক করা হবে। ভালো গল্প, স্ক্রিপ্ট পেলে সেগুলোই করছি। তা ছাড়া এখন কিন্তু কাজও বেশি হচ্ছে না। শুধু যে আমার ক্ষেত্রে তা না, সবার ক্ষেত্রেই। তো, নতুন কিছু নাটক যেমন আসবে, তেমনি আগে করে রাখা কয়েকটা নাটকও আসতে পারে।.
হঠাৎ কাজ কমিয়ে দেওয়ার কারণ কী?
ভালো কোনো গল্প বা স্ক্রিপ্ট আসছে না। কেন আসছে না, জানি না। এটা যে শুধু আমার কাছে আসছে না, এমনও না।
সাম্প্রতিক সময়ে হাতে আসা গল্পগুলোর মধ্যে হাতে গোনা দুয়েকটা ছাড়া বাকি সবই তো একই ধরনের। আমার কাছে মনে হয়, এখন ভালো স্ক্রিপ্টের সংকট। যা আসে বা দেখি, বেশির ভাগই ট্রেন্ডি নয়তো একই প্যাটার্নের। ভিন্নধর্মী গল্প নিয়ে কাজ খুব কম হচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে বাধাটা কোথায়?
একটা কারণ হতে পারে, প্রযোজকরা ভিন্নধর্মী কিছুতে আগ্রহী না। একটু নতুন বা ভিন্ন গল্প হলে সেগুলো তারা পছন্দ করছেন না। এমনও দেখেছি, কিছু গল্প আমার কাছে এসেছে, ভালো লেগেছে কিন্তু সেটা প্রযোজকের কাছে নিয়ে গেলে তারা সেটা নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তা ছাড়া প্রায়ই বাজেটের প্রসঙ্গ উঠে আসে। এমনও দেখেছি, গল্প তেমন ভালো না কিন্তু সেই প্রজেক্টের জন্য বাজেট থাকছে বেশি। সেটা হয়তো পরিচালক কিংবা শিল্পীর কারণে হতে পারে। কিন্তু অনেক পরিচালকই ভালো গল্প নিয়ে আসেন, ট্রেন্ডি নয় বলে প্রযোজকরা ঝুঁকি নিতে চান না। এসব কারণও হতে পারে ভালো গল্প সামনে না আসার। আমি বলব, প্রযোজকদের উচিত গল্প দেখে বাজেট দেওয়া, পরিচালক দেখে নয়। এতে সুন্দর আয়োজনে ভালো গল্পগুলো সুন্দরভাবে উঠে আসবে।
একই রকম গল্প দেখতে দেখতে দর্শকও একঘেয়েমি অনুভব করে। নতুনত্ব নিয়ে আসাটা কি এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে?
আমরা কাজ আসলে কাদের জন্য করি? দর্শকের জন্যই। আমরা তো সব সময়ই চাই দর্শকদের নতুন নতুন কিছু উপহার দিতে। ইন্ডাস্ট্রিই যদি আমাদের নতুন কিছু না দেয় তাহলে আমরা শিল্পীরা কোথা থেকে দেব?
বলছিলেন, আপনার কাছে যে গল্প ভালো লাগে সেটা আবার প্রযোজকের ভালো লাগে না। সে ক্ষেত্রে আপনি নিজেও তো প্রযোজনা করতে পারেন?
পারি। কিন্তু এখানে প্রসেসিংয়ে অনেক জটিলতা। যার কারণে অনেক শিল্পীর আগ্রহ থাকলেও তারা সেটা করতে পারেন না। কেউ হয়তো দেখা গেল একটা প্রোডাকশন করল, এরপর আর করে না। প্রোটাগনিস্ট হওয়ার পরও একটা প্রোডাকশন করতে গিয়ে প্রযোজক হিসেবে নানা জটিলতা ফেস করতে হয়। এ জন্য কেউ খুব একটা আগ্রহ দেখান না প্রযোজনায়।
ভালো গল্প বা চিত্রনাট্য প্রসঙ্গে নাট্যকারদের অভিযোগ থাকে, তারা নায্য পারিশ্রমিক এবং সময়টা পান না…
এটা অনেক সময়ই শুনি। আমার মনে হয়, এসব জায়গায় উপযুক্ত বাজেট দেওয়া উচিত। ক্রিয়েটিভ জায়গাগুলোতে ইনভেস্ট করলে সেটার আউটপুটও অবশ্যই ভালো আসবে। তারা আমাদের ভালো গল্প, স্ক্রিপ্ট দিতে পারবেন আর দর্শকরাও ভালো কিছু পাবে।
শিল্পী-নির্মাতাদের পারিশ্রমিক বাড়লেও গল্পকার-চিত্রনাট্যকারদের বাড়ে না…
পুরুষকেন্দ্রিক ইন্ডাস্ট্রিতে আমরা যারা নারী শিল্পী রয়েছি, তারা তো এমনিতেও অনেক কম পারিশ্রমিক পাই। তার পরও ভালো কিছুর জন্য আমরা পারিশ্রমিক থেকে শুরু করে অনেক কিছুতেই স্যাক্রিফাইস করি। আমরা যারা প্রধান চরিত্রে কাজ করি, তাদের হয়তো খুব একটা সমস্যা হয় না; কিন্তু বাকিদের তো হয়। তারা নায্যটাও পায় না। এ ছাড়া শুটিং স্পটে নারীদের জন্য বিশেষ যেসব ব্যবস্থাদি থাকা দরকার, সেগুলোও নেই। তবু সব কিছু মেনে আমরা কাজ করি শুধু দর্শকদের জন্য।
সহশিল্পীদের অনেকে এখন বড় পর্দায় মনোযোগী, আপনাকে কবে পাবে দর্শক?
ভালো গল্পের অপেক্ষা করছি। দর্শক ছোট পর্দায় আমাকে যেভাবে দেখছে, তার চেয়ে ভিন্নভাবেই নিজেকে উপস্থাপন করতে চাই। যেসব প্রস্তাব এসেছে, সেগুলো আমাকে টানেনি। একটা ভালো স্ক্রিপ্ট এবং ভালো টিম পেলে করব।
















