ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ রোববার (৮ মার্চ) পর্যন্ত নবম দিনে গড়েছে। এই যুদ্ধ কবে থামছে- তার লক্ষণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের এই যুদ্ধের প্রভাব ভালোভাবে টের পাচ্ছে পাকিস্তান।কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র পাকিস্তানকে কূটনীতিকভাবে কঠিন এক অবস্থায় ফেলেছে ।ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে পাকিস্তানের প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। দেশটির লাখ লাখ শ্রমিক সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশে কাজ করেন। গত বছর পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করে রিয়াদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও জোরদার করে।
দেশ দুইটির এই চুক্তি অনুযায়ী, এক পক্ষের ওপর আগ্রাসনকে উভয়ের ওপর আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করার অঙ্গীকার রয়েছে।এই যুদ্ধ শুরুর পর ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই পাকিস্তানে একটি প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে—যদি এই যুদ্ধে ইসলামাবাদও জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?
আল জাজিরা বলছে, এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া মূলত কূটনৈতিক তৎপরতায় সীমিত রয়েছে। দেশটি আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে, বিশেষ করে ইরান ও সৌদি আরবসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা শুরু হলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। পাকিস্তান এই হামলাকে ‘অযৌক্তিক’ বলে নিন্দা জানায়।
এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের পাল্টা হামলাকেও ‘সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দেয় পাকিস্তান।
সংঘাত শুরুর সময় ওআইসির বৈঠকে অংশ নিতে রিয়াদে ছিলেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। বৈঠকের পর তিনি বলেন, তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে তিনি ‘শাটল যোগাযোগ’ শুরু করে৩ মার্চ সিনেটে এবং একই দিন এক সংবাদ সম্মেলনে ইসহাক দার বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
এ ছাড়া দার বলেন, সৌদির সঙ্গে আমাদের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে এবং পুরো বিশ্বই তা জানে। আমি ইরানের নেতৃত্বকে বলেছি, সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের এই চুক্তির বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে।
















