ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয় দুতার্তের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে তার মাদকবিরোধী অভিযানের সময় নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তদন্ত করছে আইসিসি।
শিরা এসকুয়ের্দো নামে এক ব্যক্তি স্থানীয় এক টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দেন দুতার্তে গ্রেপ্তার হওয়ার পর। তিনি তার ১৮ বছর বয়সী ভাই ইব্রায়েম-এর ছবি হাতে তুলে ধরে বলেন- মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ হত্যার বিচার চান।
কিন্তু এর কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি ফেসবুকে দেখতে পান তার ভাইয়ের একটি এআই-জেনারেটেড ভিডিও।
এই ভিডিও পোস্ট করেন দুতের্তেপন্থি এক ইনফ্লুয়েন্সার।
এসকুয়ের্দো জানান, ‘প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে শত শত হুমকি ও বিদ্বেষমূলক বার্তা দেখতে পাই।’
দুতার্তের সঙ্গে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ ‘বংবং’ মার্কোস জুনিয়রের সম্পর্ক ভেঙে গেছে। দুতার্তের মেয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতার্তেকে অপসারণের প্রচেষ্টা এখন জোরালো। এই রাজনৈতিক বিভাজনের মাঝে দুই পক্ষই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণায় জড়িয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উভয় পক্ষই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করছে বিভ্রান্তিমূলক কনটেন্ট তৈরি করছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ের ভুয়া কনটেন্টের বেশিরভাগই দুতার্তে শিবিরের দিক থেকে এসেছে বলে মনে করছেন গণমাধ্যম গবেষক দানিলো আরাও।
তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান তেস্ক ডট পিএইচ জানিয়েছে, শুধু আইসিসি কর্তৃক দুতার্তের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত ভুয়া পোস্টই তাদের ১২৭টি যাচাইকৃত প্রতিবেদনটির মধ্যে প্রায় এক চতুর্থাংশ দখল করেছে। একই সময়ে সারা দুতার্তের অভিশংসন নিয়ে প্রতিবেদনের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৪টি।
এআই দিয়ে গড়া ভুয়া ভিডিও, রাজনৈতিক অস্ত্র
দুতার্তের মিত্র সেনেটর রোনাল্ড ডেলা রোসা জুনে তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি এআই ভিডিও শেয়ার করেন। যেখানে এক তরুণ বলছেন সারা দুতার্তেকে লক্ষ্য করে ‘পক্ষপাতমূলক বিচার’ চলছে। ভিডিওটি অন্তত ৮.৬ মিলিয়ন ভিউ হওয়ার পর সরানো হয়।
সারা দুতার্তের বলেন, ‘আমার সমর্থনে কেউ যদি এআই ভিডিও বানিয়ে পোস্ট করে, তাতে কোনো সমস্যা নেই—যদি তা লাভজনক না হয়।’ তবে গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ এর প্রতিবাদ করে বলেন, ‘এভাবে একজন রাজনীতিবিদ ভুয়া তথ্যকে স্বাভাবিক করে তোলার চেষ্টা করছেন।’
ফিলিপাইনের মাদকযুদ্ধের ভুক্তভোগীদের সংগঠন রাইজ আপ এর সদস্যরা সম্প্রতি একই ধরনের অনলাইন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। যারা আইসিসি (আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত) থেকে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ডিজিটাল প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিশেষত, দুতের্তে-সমর্থিত অনলাইন ক্যাম্পেইনগুলোর লক্ষ্য হচ্ছে আইসিসিকে হেয়-প্রতিপন্ন করা, মাদকযুদ্ধের ভুক্তভোগীদের দোষী বানানো এবং দুতের্তে পরিবারের সদস্যদের নির্যাতিত হিসেবে উপস্থাপন করা।
এ ছাড়া, ২০২৫ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জনমত প্রভাবিত করতে এসব প্রচারণা চালানো হচ্ছে। মিডিয়া বিশেষজ্ঞ দানিলো আরো বলেন, ‘এই প্রচারণা দলের মূল উদ্দেশ্য হল তথ্য বিকৃত করে তাদের নেতার ভাবমূর্তি পবিত্র দেখানো।’ তিনি উল্লেখ করেন, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া পোস্ট সম্পর্কে, যেখানে দাবি করা হয় যে আইসিসি দুতের্তেকে সাময়িক মুক্তি দিয়েছে, অথচ প্রকৃতপক্ষে এই আবেদনটি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার ফলে শুধু ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা নয়, সাধারণ জনগণও বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছে। দেশে একটি তথ্যগত সংকট সৃষ্টি হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি এক ধরনের হুমকি।
সূত্র : আলজাজিরা
















