কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে দ্বীপ জেলা ভোলার খামারিরা। ঈদে বাজারে আকর্ষণ বাড়াতে প্রস্তুত করা হয়েছে গরু-মহিষ ও ছাগল। এরই মধ্যে এই বছরে ভোলার বাজারে আলোচনায় কৃষকের লালিত স্বপ্ন বিশাল আকৃতির ‘জমিদার’। দেশীয় খাবার দিয়ে মোটাতাজা করা হয়েছে জমিদারকে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের মৃত্যু তোফাজ্জল মালের ছেলে কৃষক মোহাম্মদ আলী মাল কুরবানির জন্য বিশাল আকৃতির গরুটি প্রস্তুত করেছে।
তার দাবি বিশাল আকার এই গরুর ওজন অন্তত ১৫ থেকে ১৭ মণ। এইবারের কুরবানি ঈদে ৪ লাখ টাকা বিক্রির প্রত্যাশা করেছেন তিনি। জমিদার ছাড়াও তার খামারে দেশী আরও ৬টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে।
মো. আলী জানান, ছোট থেকেই তিনি কৃষি কাজের সাথে জড়িত কিন্তু গত এক যুগ থেকে প্রতি বছর কোরবানির জন্য বড় বড় গরু প্রস্তুত করেন। এবছরও তিনি ৬টি গরু হাটে নেবেন। ছয়টি গরুর নাম রেখেন জমিদার, বাহাদুর, বাদশা, রাজা, কালাচাঁদ ও লালচাঁদ। এরমধ্যে সবচেয়ে বড় গরু ‘জমিদার’। যার উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট ও দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুটের কাছাকাছি।তিনি আরও জানান, প্রায় ২ বছর আগে গরুটি তিনি এক খামারির থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় কিনে নেন। খামারের প্রতিটি গরুকে কাঁচা ঘাস, গম-ভুট্টা ভাঙা, খৈল ও ভূষিসহ সুষম দানাদার খাবার খাওয়ানো হয়েছে।
কিন্তু জমিদার অন্য গরুর থেকে বেশি খাবার খেয়ে থাকে। এ কারণে তার নাম জমিদার রাখা হয়েছে। প্রায় ৬ মাস ধরে জমিদারকে সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় প্রায় ২০ থেকে ২২ কেজি কাঁচা ঘাস, গম-ভুট্টা ভাঙা, খৈল ও ভূষিসহ সুষম দানাদার খাবার খাওয়াচ্ছেন।
মো. আলী মালের ছেলে জিহাদ মাল বলেন, ভোলা সদর উপজেলায় এত বড় ও পরিপুষ্ট দেশীয় গরু কারো খামারে নেই। তাই কোরবানির হাটে জমিদার উঠলে সবার দৃষ্টি কাড়বে।
ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা সব খামারিকেই দেশীয় পদ্ধতিতে এবং দেশীয় খাবার খাইয়ে গরু মোটাতাজা করার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। জমিদার নামে গরুটিও দেশীয় খাবার খেয়ে মোটাতাজা হয়েছে।
















