রাজধানীর বাজারে চাল, সবজি ও মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বোরো ধানের চাল বাজারে চলে আসায় গত এক মাসের ব্যবধানে খুচরা বাজারে চিকন চাল (মিনিকেট) প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমেছে।
সরবরাহ বাড়ায় ক্রেতার নাগালে প্রায় সব ধরনের সবজি। বেশির ভাগ সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি।
মুরগির ডিমের দাম গত সপ্তাহে কিছুটা বাড়লেও এখনো সে দামেই আছে। প্রতি ডজন ১৪০ টাকা। মুরগি ও গরু-খাসির মাংসের দামও আর বাড়েনি। সব মিলিয়ে রাজধানীর কাঁচাবাজারে এক রকম স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে পারছেন ক্রেতা।
বিক্রেতারা বলছেন, বোরো ধানের চাল বাজারে আসায় দামও কমেছে। মিনিকেট হিসেবে পরিচিত ছঁঁটাই করা চাল মূলত বোরো ধান থেকে তৈরি করা হয়। এখন এই ধানের মৌসুম। বাজারে সরবরাহ বাড়ায় কমে গেছে সব ধরনের সবজির দাম।
ক্রেতারা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কিছু খাদ্যপণ্যের দাম কমে আসায় বাজার করতে গিয়ে এখন স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাড্ডা, মহাখালী কাঁচাবাজার, ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল মানভেদে ৭৫ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক-দেড় মাস আগেও রাজধানীর খুচরা বাজারে ৯০ টাকার নিচে ভালো মানের মিনিকেট চাল পাওয়া যেত না। তবে মোটা চালের দাম তেমন পরিবর্তন হয়নি। প্রতি কেজি ব্রি-২৮ চাল ৬০ থেকে ৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৬৫ টাকা।
সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির বাজার দরের তথ্য বলছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে চিকন (মিনিকেট) চালের দাম কেজিতে ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে দাম কমে প্রতি কেজি ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পটোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, গাজর ৭০ থেকে ৮০ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, পেঁপে ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। লম্বা লাউ প্রতিপিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চালকুমড়া প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা। টমেটো ৫০ টাকা ও ঝিঙা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি।
মহাখালী কাঁচাবাজারের সবজিবিক্রেতা মো. আল-আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজারে এখন সবজির প্রচুর সরবরাহ রয়েছে। এতে আগের অর্ধেক দামে বাজারে সবজি বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি মানভেদে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। কিছুটা ছোট সাইজের পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। আলু প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, দেশি নতুন রসুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, আমদানীকৃত রসুন ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চিনির দাম আরো কমেছে। প্রতি কেজি খোলা চিনি ১১০ থেকে ১১৫ টাকা, মোটা মসুর ডাল কেজি ১১০ থেকে ১১৫ টাকা, দেশি চিকন মসুর ডাল কেজি ১৪০ টাকা।
ডিম প্রতি ডজন ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরায় ব্রয়লার মুরগি মানভেদে প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা এবং সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি।
















