এ মাসে ভারতীয় মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে তিব্বতি বৌদ্ধদের প্রধান নেতা দালাই লামার ৯০তম জন্মদিন উদযাপনের আগে তিনি আবারও চীনকে ক্ষুব্ধ করে বলেছেন, তার উত্তরাধিকারের বিষয়ে চীনের কোনো ভূমিকা নেই। তবে তিব্বতিরা বিশ্বাস করে, কোনো জ্যেষ্ঠ বৌদ্ধ ভিক্ষুর আত্মা তার মৃত্যুর পর পুনর্জন্ম লাভ করে।
১৯৫৯ সালে তিব্বতে চীনা শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে দালাই লামা ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। তবে ভারতীয় পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তার উপস্থিতি চীনের বিরুদ্ধে নয়াদিল্লির শক্তি জোগাবে। ভারতে নির্বাসিত তিব্বতি সরকার ও প্রায় ৭০ হাজার তিব্বতি নাগরিক অবস্থান করছে।
তিব্বতের চীনা নাম ব্যবহার করে ইউ জিং আরো বলেন, ‘পররাষ্ট্রবিষয়ক পেশাদার হিসেবে তাদের জিজাং সম্পর্কিত বিষয়গুলোর সংবেদনশীলতার প্রতি সম্পূর্ণ সচেতন থাকা উচিত। দালাই লামার পুনর্জন্ম বা উত্তরাধিকারের বিষয়টি সহজাতভাবে চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়।
গত সপ্তাহে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দালাই লামার পাশে বসা ভারতের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেছিলেন, একজন ধার্মিক বৌদ্ধ ধর্ম অনুসারী হিসেবে তিনি শুধু আধ্যাত্মিক গুরুকে বিশ্বাস করেন এবং পুনর্জন্মের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তার দপ্তরের আছে। তবে দালাই লামার জন্মদিনের দুই দিন আগে ৪ জুলাই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, বিশ্বাস ও ধর্মের অনুশীলন সম্পর্কিত কোনো বিষয়ে নয়াদিল্লি অবস্থান নেয় না বা কথা বলে না।
এদিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ১৫ জুলাই উত্তর চীনের তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার অধীনে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা বৈঠকে যোগ দেবেন। এর পাশাপাশি তিনি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করবেন।
২০২০ সালে এক মারাত্মক সীমান্ত সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন ভারতীয় ও চারজন চীনা সেনা নিহত হন। এ ঘটনায় ভারত-চীন সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর জয়শঙ্করের সফরই হবে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সফরগুলোর মধ্যে একটি। গত মাসের শেষের দিকে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকের পাশাপাশি চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন।
সূত্র : রয়টার্স
















