জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় ‘যুদ্ধকালীন কৃচ্ছ্রসাধন পরিকল্পনা’ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত পরিস্থিতির জেরে এই ‘কঠিন’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেহবাজ সরকার। পাকিস্তানি সংবাদপত্র ডন এমনটি জানিয়েছে।সোমবার রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ঘোষণা দেন, এখন থেকে সব সরকারি অফিস সপ্তাহে চার দিন কাজ করবে। তবে অতিরিক্ত ছুটি ব্যাংকগুলি গ্রহণ করবে না। এটি কৃষি ও শিল্প খাত, অথবা হাসপাতাল এবং অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার মতো প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলিতে প্রযোজ্য হবে না।এ ছাড়া আগামী দুই সপ্তাহের জন্য স্কুল ও কলেজ বন্ধ থাকবে এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম চলবে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, তিনি সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানকে তাদের ৫০ শতাংশ কর্মীর বাসা থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এই নির্দেশ কৃষি ও শিল্প খাতের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরিষেবার সাথে যুক্তদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।এই জরুরি পরিকল্পনার আওতায় আগামী দুই মাসের জন্য অ্যাম্বুলেন্স এবং গণপরিবহন ব্যাতিত সব সরকারি ও দাপ্তরিক যানবাহনের জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হবে।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী সব সংসদ সদস্যের বেতন ২৫ শতাংশ কমানোর ঘোষণাও দিয়েছেন। ২০ এবং তার বেশি গ্রেডের সকল সরকারি কর্মকর্তা, যাদের মাসিক আয় ৩,০০,০০০ টাকার বেশি তাদের দুই দিনের বেতন কমানোর মুখোমুখি হতে হবে। এ ছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরের ব্যয়ও ২০ শতাংশ কমানো হবে।
শেহবাজ বলেন, কোনো ফেডারেল মন্ত্রী, উপদেষ্টা বা বিশেষ সহকারী আগামী দুই মাস বেতন পাবেন না। সকল ফেডারেল ও প্রাদেশিক মন্ত্রী, উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
তিনি বলেন, পাকিস্তান উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসা তেল ও গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে, সরকার দেশের অর্থনীতির জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
















