ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগের রেকর্ড শিরোপা জয়ের পর এবার দলবদলের বাজারেও নিজেদের নতুন উচ্চতায় তুলে ধরতে চাচ্ছে লিভারপুল। পরিমিত ব্যয়ে দল গঠনে বরাবরই সুনাম ছিল ক্লাবটির, কিন্তু এবার যেন ব্যতিক্রম এক চিত্র। ভবিষ্যতের পথচলা আরও মজবুত করতে তারকা ফুটবলার কেনায় বড় অঙ্কের অর্থ ঢালছে তারা। একসময় যেখানে দলবদলের বাজারে রাজত্ব করতো পিএসজি, চেলসি, রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবগুলো, সেখানে এবার অর্থের ঝনঝনানি দেখাচ্ছে অল রেডরা।
অ্যানফিল্ডের সর্বশেষ চমক হিসেবে লিভারপুলে যোগ দিয়েছেন হুগো একিটিকে। জার্মান ক্লাব আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে এই ফরাসি ফরোয়ার্ডকে আনতে নানা সংযোজনসহ খরচ পড়েছে প্রায় ৭ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড!
এই দলবদলসহ চলতি গ্রীষ্মে লিভারপুলের মোট ব্যয় প্রায় ৩০ কোটি পাউন্ড ছুঁয়ে গেছে। যদিও কিছু খেলোয়াড় ছাড়ার মাধ্যমে তারা আয় করেছে ৬ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ডের মতো। তবু নিট ব্যয়টা লিভারপুলের মতো হিসেবি ক্লাবের জন্য বেশ বড়।
অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা ক্লাবটির অন্যতম অগ্রাধিকার। তাই এতটা ব্যয় করা নিয়ে অনেকের কৌতূহল থাকতেই পারে। এ বিষয়ে ‘দ্য আথলেটিক’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লিভারপুলের প্রধান নির্বাহী বিলি হোগান বলেন, ‘এটা হুট করে হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে আমরা একটি অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলেছি, যার ভিত্তিতেই এমন বিনিয়োগ সম্ভব হয়েছে।
’
গত মৌসুমে দলের কম খরচ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও মাঠের পারফরম্যান্সে তার জবাব দিয়েছে লিভারপুল। নতুন কোচ আর্নে স্লটের অধীনে তারা জিতেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা। প্রিমিয়ার লিগ যুগে এটি তাদের দ্বিতীয় হলেও ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগে ২০তম শিরোপা—যা ছুঁইয়ে দিয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রেকর্ড।
এ প্রসঙ্গে হোগান বলেন, ‘২০তম শিরোপা আমাদের নতুন এক অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। আমরা এখন বিশ্বের অন্যতম বড় ক্লাব।
তাই মাঠে যেমন পারফরম্যান্স বড় হওয়া উচিত, তেমনি দলবদলের বাজারেও আমাদের উপস্থিতি হওয়া দরকার বড় ক্লাবের মতো।’
ক্লাব কর্তৃপক্ষের আশা, ‘বৈশ্বিক তারকাদের দিয়ে ঠাসা থাকবে অ্যানফিল্ড। এছাড়া হংকং ও জাপানের মতো জায়গায় ট্যুরে স্টেডিয়াম পরিপূর্ণ থাকবে লিভারপুলের ম্যাচে।’
প্রাক-মৌসুম সফরে এখন এশিয়ায় অবস্থান করছে লিভারপুল। শনিবার হংকংয়ে এসি মিলানের বিপক্ষে নামবে তারা, এরপর বুধবার জাপানে মুখোমুখি হবে ইয়োকোহামা এফএমের।
















