ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসনের কারণে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। প্রায় ৯০ শতাংশ শেয়ার দর হারিয়েছে। এতে মূল্যসূচকে বড় পতন হয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নানা কারণে সপ্তাহের প্রথম দিনের শুরুতে সূচকের এই পতন হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলার কারণে ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের যুদ্ধ চলছে।
অর্থনীতিবিদ ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ আমাদের সময়কে বলেন, এমনিতেই দেশের অর্থনীতিতে চাপ রয়েছে। এর মধ্যে ইরানের ওপর হামলার খবরে মানুষের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি হলে জ¦ালানি তেলের দাম বাড়বে। এতে মূল্যস্ফীতির ওপর বড় চাপ তৈরি হবে। এ জন্য সরকারকে কৃচ্ছ্রসাধনের পরামর্শ দেন তিনি। এ ছাড়া বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হয়ে বাস্তবতা মেনে নেওয়ার পরামর্শও দেন এই অর্থনীতিবিদ।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। গতকাল রবিবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হতেই আতঙ্কে একশ্রেণির বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দেন। এতে লেনদেনের শুরুতেই ডিএসইর প্রধান সূচক ২২৩ পয়েন্ট কমে যায়। পরে কিছু ক্রেতা সক্রিয় হলে সূচকের পতন প্রবণতা কমে। অবশ্য ক্রেতার থেকে বিক্রেতার চাপ বেশি থাকায় সূচকের বড় পতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিনশেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক কমেছে ১৩৮ পয়েন্ট। সূচক কমায় বিনিয়োগকারীদের পুঁজি বা বাজার মূলধন কমেছে ৮ হাজার ৮৬ কোটি ৭৩ লাখ ৯১ হাজার টাকা। কমেছে লেনেদনের পরিমাণও। একই রকম লেনদেন হয়েছে অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)।
গতকাল ডিএসইতে দাম বেড়েছে মাত্র ৩০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৫৩টির। আর ছয়টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৭৫ কোটি ৫৬ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯৪৭ কোটি ২৮ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১৭১ কোটি ৭২ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ৩০ লাখ টাকার। ২৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন। এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছেÑ রবি, ব্যাংক এশিয়া, ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, বেক্সিমকো ফার্মা এবং ঢাকা ব্যাংক।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ২৪৫ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৩৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩৮টির এবং ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক আল আমিন বলেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে একটি গোষ্ঠী বাজারের নানা রকম তথ্য ছড়িয়ে প্যানিক সৃষ্টি করেছে। ফলে বড় পতন হয়েছে। তবে দিনের শেষ দিকে স্বাভাবিক লেনেদেন হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের যুদ্ধের ইস্যুতে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
















