অ্যাকোয়ারিয়াম কিনছেন, পছন্দের মাছও ঠিক করে ফেলেছেন। অনেকেই ভাবেন, একসঙ্গে দুটোই কেনা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি সাধারণ ভুল, যা নতুন অ্যাকোয়ারিয়াম ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়।
অ্যাকোয়ারিয়াম কেনার দিনই মাছ কিনে পানিতে ছেড়ে দিলে সমস্যার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
ঠিক যেমন একেবারে নতুন বাড়িতে ঢুকলে শুরুতে কিছুটা অসুবিধা হয়, নতুন অ্যাকোয়ারিয়ামের পরিবেশও মাছের জন্য প্রথম থেকেই উপযুক্ত হয় না। এই অবস্থাকে বলা হয় ‘নিউ ট্যাঙ্ক সিনড্রোম’। কারণ নতুন অ্যাকোয়ারিয়ামে মাছ ছাড়ার পর, মাছের বর্জ্য থেকে তৈরি হওয়া অ্যামোনিয়া দ্রুত জমে গিয়ে পানিতে বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে। এ অবস্থায় মাছ অসুস্থ হয়ে যেতে পারে, এমনকি মারা যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
এ ধরনের সমস্যা এড়াতে অ্যাকোয়ারিয়ামের পানিকে আগে থেকেই মাছের উপযোগী করে তুলতে হয়। এই প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় ‘সাইক্লিং’। যেখানে পানিতে প্রয়োজনীয় উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটানো হয়। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো মাছের বর্জ্য থেকে তৈরি অ্যামোনিয়াকে নাইট্রাইটে এবং পরে নাইট্রেটে রূপান্তর করে, যা তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর।
সাইক্লিংয়ের জন্য প্রয়োজন অন্তত চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময়। এই সময়ের মধ্যে পানির গুণগত মান উন্নত হয়, ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য গড়ে ওঠে এবং পরিবেশ মাছ রাখার জন্য উপযুক্ত হয়ে ওঠে।
কিভাবে সাইক্লিং করবেন?
– অ্যাকোয়ারিয়ামে প্রথমে অ্যামোনিয়া জাতীয় যৌগ যুক্ত করতে হবে
– নিয়মিত পানির পিএইচ ও অ্যামোনিয়ার মাত্রা পরীক্ষা করতে হবে
– ব্যাকটেরিয়া বাড়ানোর জন্য বাজারে পাওয়া যায় এমন ব্যাকটেরিয়া স্টার্টার ব্যবহার করা যেতে পারে
অতএব, অ্যাকোয়ারিয়াম কেনার পর ধৈর্য ধরুন। আগে পানি প্রস্তুত করুন, তারপর তবেই রাখুন প্রিয় মাছ।
সূত্র : ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা















