বিশ্ব রাজনৈতিক মানচিত্রে ইউরোপের প্রভাব ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে- এক সময়ের শক্তিশালী ব্লক এখন নতুন শক্তি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পিছিয়ে রয়েছে।১৯৯২ সালে মাসট্রিখ চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্ম হয়, তখন এ মহাদেশকে বিশ্বের অর্থনৈতিক,ও রাজনৈতিক কেন্দ্রে রাখার স্বপ্ন দেখা হয়। কিন্তু ব্রেক্সিট ইউরোপের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বাড়িয়েছে, এক প্রভাবশালী কণ্ঠকে সংযুক্তি থেকে আলাদা করেছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি ইউরোপের নিরাপত্তা ওরাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আগস্ট মাসে হোয়াইট হাউসে ইউরোপীয় নেতাদের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চারপাশে জড়ো হওয়া, অনেকের মতে, ইউরোপের আমেরিকার ওপর নির্ভরশীলতার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়েছে।
সাম্প্রতিক মার্কিন নীতি দলিল ইউরোপের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো তুলে ধরেছে। এসব সমস্যার মধ্যে রয়েছে, সামরিক আত্মবিশ্বাসের অভাব, রাজনৈতিক বিভাজন, অভিবাসন চাপ, জন্মহার হ্রাস এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ক্ষয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইউক্রেন শান্তি আলোচনা থেকে শুরু করে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সিদ্ধান্তে ইউরোপের প্রভাব সীমিত। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সতর্কবার্তা ইউক্রেনকে মার্কিন প্রতারণার সম্ভাবনার বিষয়ে বিশ্বাসঘাততার আরো বাড়িয়েছে।
তবু, ইউরোপ পুরোপুরি পিছিয়ে নেই। অর্থনৈতিক ও নিয়ন্ত্রক শক্তি এখনও রয়েছে এবং সামরিক ও প্রযুক্তিগত স্বায়ত্তশাসন বাড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে। ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া বা চীনের মতো বিশ্ব শক্তি হিসেবে আধিপত্য বিস্তার করতে না পারলেও এটি সূক্ষ্মভাবে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব রাখতে সক্ষম। আগামী দিনে তার প্রভাব নির্ভর করবে ঐক্য, স্থিতিশীলতা এবং কৌশলগত ব্যালেন্সের ওপর। সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
















