বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি এবং সাবেক যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন ও তাঁর স্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গতকাল সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (ঢাকা-১) মামলাগুলো করা হয়েছে।
মামলাগুলোয় পাপন দম্পতির বিরুদ্ধে ৩২ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং দুজনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে। সংস্থাটির উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ ছাড়া দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে অবৈধ সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পাওয়ায় পাপনের ছেলেমেয়েসহ পাঁচজনকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ করা হয়েছে। নোটিশে আগামী ২১ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনের সচিব বরাবর যাবতীয় আয় ও ব্যয়ের হিসাব দাখিল করতে বলা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন পাপনের স্ত্রী রোকসানা হাসান, বিসিবির সাবেক পরিচালক ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের চাকরিচ্যুত নির্বাহী পরিচালক ইসমাইল হায়দার মল্লিক। এ ছাড়া পাপনের মেয়ে রুশমিলা রহমান (অহনা), আরেক মেয়ে সুনেহরা রহমান (তন্নি), ছেলে রাফসান রহমান, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের স্ট্র্যাটেজিক ব্র্যান্ড ম্যানেজার রাকিন আল মাহমুদ এবং ইসমাইল হায়দার মল্লিকের স্ত্রী সুলতানা নিঝুমকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
প্রথম মামলায় সাবেক মন্ত্রী পাপনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় ২০ কোটি সাত লাখ ৪১ হাজার ১২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং তা দখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া ২০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৭৪২ কোটি ৭৩ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮৭ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করে ওই অর্থ জ্ঞাতসারে হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দ্বিতীয় মামলায় রোকসানা হাসানকে প্রধান আসামি এবং স্বামী পাপনকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে।
মামলায় আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ১২ কোটি ১২ হাজার ২১৩ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তা দখলে রাখা এবং ১১টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৪৯ কোটি ৩২ লাখ ৫৫ হাজার ১১০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করে ওই অর্থ জ্ঞাতসারে হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তৃতীয় মামলায় বিসিবির সাবেক পরিচালক ইসমাইল হায়দার মল্লিককে আসামি করা হয়েছে। মামলায় তিন কোটি ৭০ লাখ ১২ হাজার ৪৮১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তা দখলে রাখা এবং আটটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তিন কোটি ৩০ লাখ ২৬ হাজার ৭০২ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করে ওই অর্থ জ্ঞাতসারে হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
















