কিছুদিন আগেই নিজের জন্মস্থান বরিশালে নাটকের শুটিং করে ফিরেছেন সাফা কবির। নিজের এলাকায় শুটিং করে বেশ আত্মতৃপ্তি নিয়েই রাজধানীতে ফেরেন। এরপর আর কোনো শুটিংয়ে অংশ নেননি ছোট পর্দার জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী।
জানালেন, ভিন্নধর্মী কিংবা মনের মতো গল্প পাচ্ছেন না।
যার কারণে কাজের সংখ্যাও এখন কমিয়ে দিয়েছেন অনেকটা। ভালো গল্প না পাওয়া পর্যন্ত বিরতিতে থাকতে চান বলেও ইচ্ছা প্রকাশ করেন অভিনেত্রী।
গল্প নেই, তাই বিরতিতে
“এখন যে গল্পগুলো আসে, বেশির ভাগই একই প্যাটার্নের বা ট্রেন্ডি। এখন থ্রিলার, সাসপেন্স গল্পে কাজ হচ্ছে বেশি।
এর বাইরে ভিন্নধর্মী গল্প খুবই কম। সর্বশেষ ‘সন্ধি’ ও ‘কেন এই সঙ্গতা’ দুটো কাজ থেকে দর্শকের অনেক অনেক প্রশংসা, দারুণ দারুণ সব মন্তব্য পেয়েছি। এই দুটোর মতো কিছু পাচ্ছি না, এখনের গল্পগুলো সেভাবে টানছে না আমাকে। তাই ভেবেছি, আপাতত কিছুদিন বিরতিতে থাকব, যতক্ষণ না ভালো গল্পের কিছু পাই।
”
দর্শকেরাও চায় তাকে ভিন্নভাবে, ভিন্ন ভিন্ন গল্পে দেখতে। থ্রিলার, সাসপেন্স গল্পের সুন্দর রোমান্টিক গল্পে নিজেকে আবারও নতুন রূপে আবিষ্কার করতে চান বলে জানান সাফা। সোজাসাপ্টা উত্তর—ভালো গল্পের অপেক্ষায় আছি।
May be an image of 1 person
শুটিং নেই, অভিনয় চর্চায় কাটছে সময়
যেহেতু এখন সেভাবে শুটিং করছেন না, এই সময়টাতে বাসায় অভিনয় চর্চা করে সময় কাটাচ্ছেন বলে জানান সাফা কবির। তার ভাষ্যে—এখনো আমি বাসায় আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অভিনয় প্র্যাকটিস করি, মাঝেমধ্যে বাহিরের বিভিন্ন শিল্পীদের চরিত্র ঘেঁটে দেখি আর চর্চা করি যে, এই চরিত্রটা আমি করলে কিভাবে করতাম বা কেমন হতো! শেখার তো কোনো শেষ নেই।
বিভিন্ন সিনেমা দেখি, গল্প পড়ি, চরিত্র নিয়ে ভাবি। এছাড়া বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাই। গতকাল তৌসিফ (মাহবুব), টয়াকে (মুমতাহিনা) সঙ্গে নিয়ে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। বলতে পারেন, ভয়কে জয় করতে গিয়েছিলাম। তিনজন মিলে জ্যাক ক্রেগার পরিচালিত ‘উইপেনস’ সিনেমাটি দেখেছি। আমরা তিনজনেই মোটামুটি ভিতু, তাই ভৌতিক সিনেমা দেখে ভয়কে জয় করে এসেছি।
May be an image of 2 people and indoors
সাহসিকতার পরিচয়ে তৌসিফ
বন্ধুত্বের প্রসঙ্গে উঠে আসে সহশিল্পী তৌসিফ মাহবুবের কথা। সম্প্রতি খোয়াবনামা নাটকের জন্য জ্যান্ত সাপের সঙ্গে শুটিং করেছেন তিনি।
এমন কথার প্রসঙ্গে সাফা কবির বললেন, ‘তৌসিফ এবং আমি দুজনেই সাপ ভীষণ ভয় পাই। সেদিন ওর নাটকের (খোয়াবনামা) পোস্টার ও ভিডিওটা দেখেছিলাম, সেটা দেখেই ভীষণ ভয় পেয়েছি। ও অনেক সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। আমার বন্ধু বলে বলছি না, কাজের প্রতি ও অনেক বেশি ডেডিকেটেড। আর সত্যি বলতে, শিল্পীদের জীবনটা একটু অন্যরকমই। স্বাভাবিক সময়ে একরকম থাকলেও অ্যাকশন আর কাট বলার মাঝখানের সময়টা তারা অন্যরকম একটা জীবন পার করে। এই সময়টাতে শিল্পীরা একদমই ভিন্ন, তাদের জগতটাই পাল্টে যায়। এমন অনেক সময় গিয়েছে যখন আমরা কাজ করেই যাচ্ছি, দুপুরের খাবার সময় পেরিয়ে সন্ধ্যা হয়ে গেছে, তবু কাজেই ডুবে আছি। সেই দুপুরের খাবার খেয়েছি সন্ধ্যা ৬টা/৭টার সময়। এরমধ্যে আমাদের ক্ষুধাও লাগেনি। এরকম অসংখ্যবার হয়েছে বা এখনো হয়। কারণ ওই একটাই, অ্যাকশন আর কাট লাইফ।’
ওটিটিতে ফেরা
গেল বছরে সিয়াম আহমেদের সঙ্গে জুটি হয়ে ওয়েব ফিল্ম ‘টিকিট’-এ অভিনয় করেছিলাম সাফা। এরপর আর তাকে এ মাধ্যমে পাওয়া যায়নি। অভিনেত্রীর কথায়, ‘ওখানে আমার যে চরিত্রটা ছিল সেটা মোটেও সহজ ছিল না। চরিত্রটা এমন ছিল যে, চোখের পলক ফেলা যাবে না। এটা ভীষণ কঠিন ছিল আমার জন্য। এরপর আর না পাওয়ার কারণ ওই সঠিক গল্পই। রিসেন্ট কিছু গল্প এসেছে, দেখি কি হয়।’
তবে বড় পর্দায় কবে?
সহশিল্পীদের অনেকে যখন বড় পর্দার দিকে ঝুঁকছেন, তখন সাফাও একদম প্রস্তুত। তবুও প্রশ্নটা একটাই—কবে আসছেন বড় পর্দায়? সাফার উত্তর স্পষ্ট।
‘আমি চাই বড় পর্দায় কাজ করতে। তবে মাল্টিকাস্টিং নয়, একক কোনো গল্পে, যেখানে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ থাকবে।’
সম্প্রতি জাহিদ হাসান অভিনীত ‘উৎসব’ সিনেমা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন সাফা। বললেন, ‘কি সুন্দর একটা সিনেমা। অনেক ভালো লেগেছে এটা দেখে। আর মনে হয়েছে, সেখানে জাহিদ হাসান স্যারের সঙ্গে যদি কাজ করার সুযোগ পেতাম!’
এরপর বললেন, ‘আমি এখন বড় পর্দায় কাজ করার জন্য একদমই প্রস্তুত। সবার সঙ্গেই কাজ করতে চাই, শুধু ভালো গল্পের অপেক্ষায় আছি। জাহিদ হাসান স্যার, শাকিব খান, সিয়াম, এমনকি শরিফুল রাজের সঙ্গেও।’
















