জঘন্য একটি অপরাধের জেরে ভারতের ওড়িশার মালকানগিরি জেলায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এক নারীর শিরশ্ছেদ করা মৃতদেহ উদ্ধারের পর আদিবাসী সম্প্রদায় বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে একটি মুসলিম গ্রামের বিরুদ্ধে চরম চরম নৃশংসতা চালিয়েছে। জমি নিয়ে বিবাদকে কেন্দ্র করে সন্দেহের বশে ক্ষুব্ধ জনতা প্রায় ১৫০টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
Advertisement
টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, সোমবার ভোরে ওড়িশার মালকানগিরিতে এক আদিবাসী মহিলাকে গলাকাটা অবস্থায় পাওয়ার পর উগ্রবাদী সশস্ত্র আদিবাসী জনতা কথিত ‘বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বসতি স্থাপনকারীদের’ গোটা গ্রামে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালায়। সম্ভাব্য প্রতিশোধের আশঙ্কায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এমভি-২৬ বসতি এলাকার কিছু বাসিন্দা পাশের রাখালগুড়া গ্রামের বাসিন্দা লেক পদিয়ামিকে (৫১) জমি নিয়ে বিবাদের জেরে হত্যা করেছে এমন সন্দেহে জনতা প্রায় ১৫০টি বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। তিনি নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর, ৪ ডিসেম্বর দুডামেট্টা নদীর তীরে তাঁর শিরশ্ছেদ করা দেহ পাওয়া গিয়েছিল।
এসপি বিনোদ পাটিল জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই সন্দেহভাজন খুনীকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা শান্তি বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করছি। সম্প্রীতি বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”অশান্তির মধ্যে, ডিজিপি ওয়াই বি খুরানিয়া পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং মাওবাদীরা যেন এই পরিস্থিতির সুযোগ না নিতে পারে, তার কৌশল তৈরি করছেন।
উগ্র আদিবাসীদের এই সহিংসতা বিধানসভাতেও প্রতিধ্বনিত হয়েছে। বিজু জনতা দলের (বিজেডি) বিধায়ক প্রতাপ কেশরী দেব বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, তারা দুই গ্রামের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিবাদ মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, “এই অগ্নিসংযোগ রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার নাজুক পরিস্থিতিকে উম্মোচিত করেছে। মাওবাদীরা এই অস্থিরতার সুযোগ নিতে পারে।”
বিজেপি বিধায়ক তঙ্কাধর ত্রিপাঠী পালটা বলেন, প্রাক্তন বিজু জনতা দল (বিজেডি) প্রশাসনের থেকে ভিন্নভাবে, মোহন চরণ মাঝির সরকার তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে।কালেক্টর সোমেশ উপাধ্যায় জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল সাগে দশটায় দুই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি শান্তি কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, ১৯৭০-এর দশক পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে আসা এবং ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়া দুই লাখেরও বেশি বাংলাভাষী পরিবার মালকানগিরি জেলার ২১৪টি গ্রামে বাস করে। সূত্র জানিয়েছে, আদিবাসীদের হামলার আশঙ্কায় এমভি-২৬ বসতির প্রায় ১,০০০ বাসিন্দা রাতারাতি গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে।
















