জামালপুরের ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় যমুনা নদীতে পূর্ণাঙ্গ বাঁধ নির্মাণ করা হলে বন্যা থেকে রক্ষা পাবে তিন উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ। চিনাডুলী ইউনিয়নের গিলাবাড়ি থেকে নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের উলিয়া এবং দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ী ইউনিয়নের বালাগ্রাম থেকে ইসলামপুর উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের খানপাড়া এলাকা পর্যন্ত যমুনা নদীর প্রায় ৬ কিলোমিটার অংশে বাঁধ না থাকায় প্রতিবছর ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ ও মেলান্দহ উপজেলা প্লাবিত হয়। এতে তলিয়ে যায় হাজার হাজার একর ফসলি জমি এবং ক্ষতিগ্রস্ত হন প্রায় দুই লাখ মানুষ।জানা গেছে, নদীভাঙন থেকে রক্ষাকবচ হিসেবে যমুনার বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলেও দুই পাশের কিছু অংশ অবশিষ্ট থাকায় যমুনার ফুলে ওঠা পানি পাইলিংয়ের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়। এতে প্রবল স্রোতে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, সেতু-কালভার্ট, ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বন্যা শেষ হলেও ক্ষত নিয়ে সারা বছর মানবেতর জীবনযাপন করেন তিন উপজেলার মানুষ।দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ী ইউনিয়নের টার্মিনাল হয়ে বালাগ্রাম থেকে ইসলামপুর উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের খানপাড়া এলাকা পর্যন্ত এবং চিনাডুলী ইউনিয়নের গিলাবাড়ি থেকে নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের উলিয়া পর্যন্ত যমুনা নদীর প্রায় ৬ কিলোমিটার অংশে বাঁধ নির্মাণ করা হলে বন্যার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, সেতু-কালভার্ট ও তিন ফসলি জমি।
বিগত সরকার প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে যমুনার বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং শত কোটি টাকা ব্যয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করলেও উল্লেখিত প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকা এখনো অরক্ষিত রয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, নদীর পানি বাড়লেই ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী ও সদর ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম, মেলান্দহ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রাম এবং দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদ, রেলস্টেশন ও পৌর শহরের অন্তত ১০টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়। প্রতিবছর অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পতাদের অভিযোগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর উপজেলার শশারিয়াবাড়ি থেকে চিনাডুলী ইউনিয়নের সিংভাঙ্গা পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হলেও গিলাবাড়ি থেকে উলিয়া পর্যন্ত অংশটি বাদ পড়ে গেছে।
উলিয়া এলাকার ওয়ারেছ আলী বলেন, যমুনা নদীর মুখে লাগাম দিতে এই ৬ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হলে তিন উপজেলার অন্তত ৬০টি গ্রাম বন্যার কবল থেকে রক্ষা পাবে এবং কৃষকের তিন ফসল ঘরে উঠবে।
ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে কিছু অংশে বাঁধ নির্মাণ করা হলেও বরাদ্দের অভাবে গিলাবাড়ি থেকে উলিয়া পর্যন্ত এবং বালাগ্রাম থেকে ইসলামপুর সীমানা পর্যন্ত এলাকায় কাজ করা সম্ভব হয়নি।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙন অনেকাংশে রোধ করা গেছে। তবে যমুনার নাব্যতা কমে যাওয়ায় বর্ষায় হঠাৎ নদী ফুলে ওঠে, ফলে বিচ্ছিন্ন ভাঙন ও তীব্র বন্যা দেখা দেয়।
সংসদ সদস্য এ. ই. সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
















