ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর একজন রিজার্ভিস্ট মেজরের বিরুদ্ধে গত বছরের ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের গোপন তথ্য ব্যবহার করে অনলাইন প্রেডিকশন প্ল্যাটফর্ম ‘পলিমার্কেট’-এ বাজি ধরার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তেল আবিবের একটি আদালত এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। অভিযুক্ত ওই সামরিক কর্মকর্তা এবং তার এক বেসামরিক সহযোগীর বিরুদ্ধে গত মাসে নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধ, ঘুষ গ্রহণ এবং বিচার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের ওপর ইসরায়েলের ১২ দিনব্যাপী বিমান হামলা শুরুর নির্দিষ্ট সময় এবং যুদ্ধ শেষ হওয়ার তারিখ নিয়ে ওই মেজর আগাম বাজি ধরেছিলেন।আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, গত বছরের ১৩ জুন ইরানে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার ঠিক একদিন আগে একটি অত্যন্ত গোপনীয় ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন ওই মেজর। সেখানে তিনি হামলার সময়সূচী সম্পর্কে জানতে পারেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তার বেসামরিক সহযোগীকে সেই তথ্য জানিয়ে দেন।
যখন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের পথে রওনা হয়, তখন ওই কর্মকর্তা সংকেত দেওয়ার পর তার সহযোগী ‘পলিমার্কেট’-এ বাজিতে অংশ নেন। মামলার স্পর্শকাতরতার কারণে এতদিন অভিযুক্তদের পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্যের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছিল, যা গত বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের আবেদনের প্রেক্ষিতে আংশিকভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে।বর্তমানে অভিযুক্তদের নাম ও পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ না করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রসিকিউটরদের মতে, ব্যক্তিগত লাভের জন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা ফাঁস করা একটি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।
এছাড়া এই ঘটনার মাধ্যমে অনলাইন বাজি ধরার প্ল্যাটফর্মগুলোর অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত মেজর সামরিক সংহতি ও নৈতিকতা ভঙ্গ করেছেন বলেও আদালতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই মামলাটি এখন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) অভ্যন্তরে শৃঙ্খলার বিষয়টি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশের দাবি জানালেও আদালত এখন পর্যন্ত খুব সামান্য তথ্যই প্রকাশ করেছে। তবে এটি স্পষ্ট যে, যুদ্ধের শুরু ও শেষ নিয়ে বাজিতে জিতে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একটি পরিকল্পিত ছক এঁকেছিলেন ওই দুই ব্যক্তি।
বর্তমানে তারা পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং মামলার পরবর্তী শুনানির প্রস্তুতি চলছে। যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তবে ওই মেজরের দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ডসহ বড় ধরনের শাস্তির সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এল যখন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা পুনরায় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সামরিক গোয়েন্দা তথ্যের সুরক্ষার বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
















