স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত দেশবরেণ্য অভিনেতা, নাট্যকার ও নির্দেশক আতাউর রহমানের মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে।মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে মগবাজারে জানাজা শেষে তার মরদেহ শহীদ বেদিতে রাখা হবে। জনসাধারণের শ্রদ্ধা শেষে বনানী কবরস্থানে গুণী এই নাট্যব্যক্তিত্বের দাফন সম্পন্ন হবে।
এর আগে সোমবার মধ্যরাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এ অভিনেতা।
অভিনয়শিল্পী সংঘ থেকে জানানো হয়, আতাউর রহমানের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত রাখা হবে।এর আগে জোহরের নামাজ শেষে মগবাজারের ইস্পাহানি সেঞ্চুরি আর্কেডে নিজ বাসভবনের সামনে খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে তার জানাজা। সবশেষে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে বরেণ্য অভিনেতাকে।
পরিবারসূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বাসায় পড়ে যাওয়ার পর আতাউর রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এরপর প্রথমে তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাৎক্ষণিক আইসিইউ সুবিধা না পাওয়ায় পরে তাকে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
ভর্তির পরই তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। ওইদিনই শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু আবার অবস্থার অবনতি হলে গত রোববার তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
আতাউর রহমান বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বহুমাত্রিক পরিচয়ের অধিকারী।
তিনি একাধারে নাট্যজন, অভিনেতা, মঞ্চনির্দেশক ও লেখক। স্বাধীনতাযুদ্ধ-পরবর্তী মঞ্চনাট্য আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকাবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর আতাউর রহমান ১৯৬৮ সালে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭২ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকটির মাধ্যমে নাট্য নির্দেশক হিসেবে আবির্ভূত হন তিনি।
নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের এই প্রতিষ্ঠাতা ‘গডোর প্রতীক্ষায়’, ‘গ্যালিলিও’, ‘ঈর্ষা’, ‘রক্তকরবী’, ‘ক্রয়লাদ ও ক্রেসিদা’, ‘এখন দুঃসময়’, ‘অপেক্ষমান’- এর মতো নাটকগুলোও নির্দেশনা দিয়েছেন।
নাগরিকের বাইরে তিনি ‘আগল ভাঙার পালা’, ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, ‘ম্যাকবেথ’, ‘গডোর প্রতীক্ষায়’, ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’, ‘নারীগণ’, ‘রুদ্র রবি ও জালিয়ানওয়ালাবাগ’ নাটকগুলো নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষকতার পাশাপাশি ‘প্রজাপতি নিবন্ধ’, ‘মঞ্চসারথির কাব্যকথা’, ‘নাটক করতে হলে’, ‘নাট্যপ্রবন্ধ বিচিত্রা’, ‘লেখনী’সহ নানা বই প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, আফ্রো-এশিয় গণসংহতি পরিষদের সাবেক সদস্য একইসঙ্গে বাংলাদেশ নাটকের আপিল কমিটি ও চলচ্চিত্র জুরি বোর্ডের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ শাখার পরে বিশ্বশাখার সভাপতিও ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর।
২০০১ সালে একুশে পদকপ্রাপ্তির পাশাপাশি তিনি ‘গ্লোরিয়াস সান’, ‘ভ্যালিয়েন্ট সান’, ‘মীর মকসুদ উল সালেহীন বজলুল করিম পদক’, ‘মুনীর চৌধুরী’ সম্মাননা পেয়েছেন।
















