পাগলাটে এক ম্যাচ ছিল- ম্যাচ শেষে এমনটিই জানিয়েছেন স্পেনের জয়ের দ্বিতীয় গোলের নায়ক মিখেল মোরেনো। স্টুটগার্টের মাঠ এমএইচপি অ্যারেনায় যে ৫-৪ গোলের এক থ্রিলারই হয়েছে। নেশনস লিগের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের ম্যাচ না দেখলে অবশ্য কতটা রোমাঞ্চকর ছিল তা বোঝা যাবে না।
কেননা ম্যাচের ৫৯ মিনিটে যখন ফ্রান্সের হয়ে এক গোল শোধ দিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ততক্ষণে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে স্পেন।
পেনাল্টি থেকে এমবাপ্পের করা গোলের রেশ শেষ হতে না হতেই আবার নিজের দ্বিতীয় গোল করেন লামিনে ইয়ামাল।
৬৭ মিনিটে তখন স্পেন-ফ্রান্স ম্যাচের ব্যবধান দাঁড়ায় ৫-১। এমন সমীকরণের ম্যাচে কে বলবে না বড় জয় পাচ্ছে না স্পেন। কিন্তু বাকি ২৩ মিনিটে ফ্রান্স যা করেছে তা অবিশ্বাস্য।
বিশেষ করে যোগ করা সময়সহ শেষ ১৪ মিনিট। তিন গোল করে যে অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচে কামব্যাক করেছেন দিদিয়ের দেশমের দল।
তবে এই কামব্যাকটুকুই। ম্যাচে আর জয় পাওয়া হয়নি।
জয় পেয়েছে স্পেনই। ৫-৪ ব্যবধানের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনার ফাইনালও নিশ্চিত করেছে সর্বশেষ ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। আগামী ৯ জুনের ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের মাঠে তাদের প্রতিপক্ষ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। প্রথম সেমিফাইনালে জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে নেশনস লিগের ফাইনাল নিশ্চিত করে তারা।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল ফ্রান্স।
তবে ডি বক্সের ভেতর থেকে এমবাপ্পের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমিওনে। পরের গল্প শুধুই যেন স্পেনের। ম্যাচের ২২ মিনিটে প্রথম এগিয়ে যায় স্পেন। মিকেল ওয়ারজাবালের পাস থেকে স্পেনকে প্রথম আনন্দে ভাসান নিকো উইলিয়ামস।
সেই গোলের রেশ শেষ হতে না হতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মোরেনো। ২৫ মিনিটে স্পেনের দ্বিতীয় গোলটি করেন আর্সেনালের ফরোয়ার্ড মোরেনো। এবারও অ্যাসিস্ট করেন ওয়ারজাবাল। বিরতিতে যাওয়ার ঠিক এক মিনিট আগে আরেকটি গোল পেয়েছিল স্পেন। গোলটি করেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের নতুন ডিফেন্ডার ড্যান হুইসেন। তবে ৪৪ মিনিটে করা তার হেডের গোলটি ভিএআরে বাতিল হয়।
বিরতির পর ম্যাচে ফেরার বিপরীতে উল্টো স্পেনকে আরেক গোল উপহার দেয় ফ্রান্স। নিজেদের ডি বক্সে আদ্রিয়েন রাবিওট লামিনেকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় স্পেন। ৫৪ মিনিটে স্পটকিক থেকে গোল করতে ভুল করেননি ১৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। এক মিনিট পরেই চতুর্থ গোলটিও পেয়ে যায় স্পেন। ৫৫ মিনিটের গোলটির নায়ক পেদ্রি।
৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়া ফ্রান্সকে ৫৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমান এমবাপ্পে। কিন্তু সেই আনন্দ ৮ মিনিট পরেই ভুলে যেতে বাধ্য হয় ফ্রান্স। কেননা লামিনে নিজের দ্বিতীয় ও দলের পঞ্চম গোল করেন। ম্যাচ যখন শেষ তখনই শেষ চেষ্টা করে গেলেন উসমান দেম্বেলে-এমবাপ্পেরা।
৭৯ মিনিটে বদলি নামা রায়ান চেকরি দলের দ্বিতীয় গোলটি করে যার শুরুটা করেছিলেন এমবাপ্পের সহায়তায়। প্রতিপক্ষের ডি বক্সে চাপ বাড়ানো ফ্রান্স ৮৪ মিনিটে পেয়ে যায় তৃতীয় গোলটিও। সেটা অবশ্য আত্মঘাতী। ফ্রান্সের বদলি নামা ডিফেন্ডার মালো গুস্তোর ক্রস বাইরে পাঠাতে গিয়ে নিজেদের জালে জড়িয়ে দেন স্পেনের বদলি নামা ডিফেন্ডার ড্যানিয়েল ভিভিয়ান।
আর ম্যাচের যোগ করা তৃতীয় মিনিটে চেকরির সহায়তা ব্যবধান ৫-৪ করেন রান্দেল কুলো মুয়ানি। ব্যবধানটা এক গোলে নিয়ে আসলেও সমতায় আর ফেরা হয়নি ফ্রান্সের। সমতায় ফেরাটা হয়তো তাদের ভাগ্যে ছিল না। কেননা ম্যাচে একাই ছয়টি সেভ করেছেন স্পেনের গোলরক্ষক সিমোন। যার মধ্যে এমবাপ্পে-দেম্বেলের নিশ্চিত গোল ছিল। সঙ্গে দেম্বেলের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। গতকাল সব মিলিয়ে ৪ টি সুযোগ পেয়েছিলেন পিএসজির ফরোয়ার্ড। কিন্তু প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক ও পোস্টের বাধার কারণে একটিও গোল পাননি তিনি। দেম্বেলের মতোই পরে দারুণ খেলেও হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে ফ্রান্সকেও।
















