ভারতের একটি সংসদীয় কমিটি দেশটির সরকারকে বাংলাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়ে সতর্ক নজর রাখতে বলেছে।
কংগ্রেস সংসদ সদস্য শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন ভারতের পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি তাদের ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং স্থল সীমানা চুক্তি ও সামুদ্রিক সীমানা নিষ্পত্তির মতো পূর্ববর্তী চুক্তিগুলোর কারণে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থানের বিষয়ে কমিটি জানিয়েছে, ভারত মানবিক কারণে তাকে আশ্রয় দিয়েছে। তার পক্ষ থেকে ভারতের মাটি ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধের বিষয়ে যেকোনো অগ্রগতি সংসদকে জানাতে সরকারকে বলা হয়েছে।
ভারতীয় কমিটি ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে শুরু হওয়া সহিংস বিক্ষোভ, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সংকটকালীন ভারতের ‘নীরব কূটনীতির’ প্রশংসা করে সংসদীয় প্যানেলটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার সুপারিশ করেছে।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর কথিত ‘হামলা, উপাসনালয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের’ ঘটনায় ভারতীয় কমিটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এছাড়া বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের একাংশে ভারত-বিরোধী প্রচারণার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
সংসদের এই স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি পৃথক ইউনিট গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে, যা অপপ্রচার মোকাবিলা করবে এবং ভারতের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরবে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশে পরিকাঠামো, বন্দর ও প্রতিরক্ষা প্রকল্পে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডোর এবং বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী এলাকায় ভারতের নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন বিদেশি তৎপরতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ভূখণ্ড ও নদীবাহিত প্রতিকূলতার কারণে সীমান্তের বড় অংশ এখনও কাঁটাতারবিহীন রয়ে গেছে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলে। তাই গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালে বাংলাদেশের ‘স্বল্পোন্নত দেশ’ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের আগেই প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা ত্বরান্বিত করার এবং ঝুলে থাকা সংযোগ প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।২০২৬ সালে গঙ্গা পানি চুক্তি শেষ হতে চলায় তা নবায়নের বিষয়ে দ্রুত আলোচনা শুরু এবং তিস্তা পানি বণ্টন ইস্যুতে অগ্রগতির আহ্বান জানিয়েছে সংসদীয় কমিটি। সূত্র: দ্য উইক
















