বিয়ে হলো একটি নতুন জীবনের সূচনা। বিয়ের পর দুজন ভিন্ন লিঙ্গের মানুষ একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। মানুষের ভালো লাগা না লাগার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। শারীরিক সুস্থতাও তার একটি কারণ।
অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, বিবাহিতরা অবিবাহিতদের তুলনায় বেশি ভালো থাকেন এবং তাদের শরীরও বেশ ভালো থাকে।
তবে নতুন একটি গবেষণায় জানা গেছে, বিবাহিতদের ডিমেনশিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবথেকে বেশি। এই গুরুতর মস্তিষ্কের রোগ হতে পারে তাদের। এতে কিন্তু ব্যক্তি সবকিছু ভুলতে থাকেন।
তবে কেন বিবাহিতদের এই মস্তিষ্কের রোগের ঝুঁকি বেশি, তা জানিয়েছেন গবেষকরা। চলুন, জেনে নেওয়া যাক।
কাদের ওপর গবেষণা চালানো হয়েছিল
ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা ১৮ বছর ধরে ২৪০০-র বেশি আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর এই গবেষণা চালিয়েছিলেন। যাদের গড় বয়স ছিল ৭২ বছর।
তাদের মধ্যে রয়েছেন বিবাহিত মহিলা, বিধবা, ডিভোর্সি, আবার অবিবাহিতরাও। তাদের মধ্যে দেখা গেছে, বিবাহিতদের বেশিরভাগই কিন্তু ডিমেনশিয়া রোগে ভুগছেন। আবার কেউ বা ডিমেনশিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার মুখোমুখি রয়েছেন।
আরো পড়ুন
চল্লিশের পরেও থাকবে যৌবন, ছাড়তে হবে যে ৫ অভ্যাস
চল্লিশের পরেও থাকবে যৌবন, ছাড়তে হবে যে ৫ অভ্যাস
কাদের এই রোগের ঝুঁকি বেশি
গবেষণায় আরো দেখা গেছে, যারা অবিবাহিত তাদেরও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনা বিবাহিতদের থেকে ৪০ শতাংশ কম, আর যারা ডিভোর্সি, তাদের ৩৪ শতাংশ ডিমেনশিয়া রোগের ঝুঁকি কম, বিধবাদের ডিমেনশিয়া হওয়ার ঝুঁকি ২৭ শতাংশ কম।
এই গবেষণা থেকে জানা গেছে, বিবাহিতরা সব থেকে বেশি ডিমেনশিয়া রোগের ঝুঁকিতে ভুগছেন।
কী জানা গেছে গবেষণা থেকে
তবে আগের অনেক গবেষণা থেকে জানা গেছে, বিবাহিতরা মানসিকভাবে বেশি ভালো থাকেন। আজ থেকে নয়, বহুদিন আগে থেকেই এটাই বিশ্বাস করা হয়। যে বিবাহিতরা সামাজিকভাবে সকলের সঙ্গে বেশি যুক্ত থাকেন। তারা ভালোভাবে জীবনযাত্রা করেন, খাওয়া দাওয়ার ওপরও তারা যথেষ্ট নজর রাখেন। এ ছাড়া তারা জীবনসঙ্গীর সঙ্গে ভালো থাকার কারণে তাদের মানসিক চাপ কিছুটা হলেও কম। তারা তাদের মস্তিষ্কের এই বড় রোগের ঝুঁকিও অনেকটাই কম। বিবাহিতদের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বেশি, তারা মানসিকভাবে বেশি সুস্থ থাকেন। তবে এই গবেষণা কিন্তু অনেকটাই তার বিপরীতে কথা বলেছে।
কেন চাপে থাকেন
যদিও গবেষণায় বিবাহিতদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধির স্পষ্ট কোনো কারণ চিহ্নিত করা হয়নি। তবে কয়েকটি সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। বিবাহিতদের কিন্তু অনেক সময় সামাজিকভাবে যোগাযোগ সীমিত থাকে, আবার তাদের আত্মনির্ভরশীলতা অনেক কম। জীবনসঙ্গীর যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব, বিবাহিতদের জীবনের নানা কারণে চাপ অনেক সময় মস্তিষ্কের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে।
অবিবাহিতদের কী ঝুঁকি রয়েছে
অবিবাহিতরা অসুস্থ হয় খুব কম, অর্থাৎ তাদের চিকিৎসাও খুব কম করা হয়। তাদের মানসিক চাপও কিন্তু অনেকটাই কম থাকে। যে কারণে ডিমেনশিয়া রোগের ঝুঁকিও অনেক কম। বিবাহিতদের তুলনায় তাদের মানসিক চাপ কম।
















