অনেক বাবা-মা শিশুর কম ওজন নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। তবে শিশুর ওজন বাড়াতে চিনিযুক্ত মিষ্টি কিংবা ফাস্টফুডে ভরসা করা স্বাস্থ্যকর নয়। বরং স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে শিশুদের সঠিক ওজন বৃদ্ধি এবং সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সুষম খাদ্যতালিকা শিশুর শরীরে প্রয়োজনীয় ক্যালোরি ও পুষ্টি সরবরাহ করে, যা তাদের দৈহিক বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।
চলুন, জেনে নিই এমন ১০টি পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে যা শিশুর ওজন বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
কলা
পটাশিয়াম ও কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ কলা উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত ফল। এটি ম্যাশ করে বা স্মুদি হিসেবে খাওয়ানো যায়। ভ্রমণের সময়ও একটি আদর্শ জলখাবার।
মিষ্টি আলু
ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর মিষ্টি আলু সহজে হজমযোগ্য ও সুস্বাদু। স্যুপ বা পিউরি আকারে খাওয়ানো যায়।
ডাল
প্রোটিন, আয়রন ও ফাইবার সমৃদ্ধ ডাল শিশুদের হজমে সহায়ক এবং ওজন বৃদ্ধিতে কার্যকর।
ঘি
ঘরে তৈরি ঘি শিশুদের খাবারে কয়েক ফোঁটা মিশিয়ে দিলে ক্যালোরি বাড়ে ও পুষ্টি মেলে।
৮ মাস বয়স থেকেই দেওয়া যায়।
দুগ্ধজাত পণ্য
দই ও অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার এক বছর বয়সের পর খাওয়ানো যেতে পারে। এগুলো হজম শক্তি উন্নত করে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
ডিম
প্রোটিন ও ফ্যাটে ভরপুর ডিম শিশুদের ওজন বাড়াতে সহায়ক। সিদ্ধ ডিম, ওমলেট বা ডিম-ভাত তৈরি করে খাওয়ানো যায়।
শুকনা ফল ও বীজ
বাদাম, কিসমিস, তিল, কু্মড়ার বীজ প্রোটিন ও ফাইবারে ভরপুর। গুঁড়া করে দুধে মিশিয়ে নাশতা হিসেবে খাওয়ানো যায়।
অ্যাভোকাডো
স্বাস্থ্যকর চর্বি ও নানা ভিটামিনে সমৃদ্ধ অ্যাভোকাডো শিশুর জন্য আদর্শ।
মুরগি
প্রোটিনের সহজলভ্য উৎস হিসেবে মুরগির মাংস পেশি গঠন ও ওজন বৃদ্ধিতে সহায়ক। বিভিন্নভাবে রান্না করে পরিবেশন করা যায়।
কেন স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেবেন?
চিনিযুক্ত বা প্রক্রিয়াজাত খাবার শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এতে দাঁতের সমস্যা, পুষ্টির ঘাটতি বা ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই ওজন বাড়াতে স্বাস্থ্যকর ও প্রাকৃতিক খাবারই শ্রেয়।
কিভাবে খাদ্যতালিকায় যোগ করবেন?
শিশুর বয়স ও হজম ক্ষমতা বিবেচনা করে নতুন খাবার ধীরে ধীরে যোগ করুন। ছোটদের জন্য ম্যাশ বা স্যুপ ভালো, আর বড়দের জন্য ভিন্ন স্বাদের রেসিপি তৈরি করুন। খাবার আকর্ষণীয় করে পরিবেশন করলে শিশুরা আগ্রহ নিয়েই খাবে।
শিশুর ওজন বাড়ানো মানে শুধু পেট ভরানো নয়, বরং তাদের শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিতে সমৃদ্ধ করা। সঠিক খাবারের মাধ্যমে শিশুরা শুধু ওজনেই নয়, স্বাস্থ্য, শক্তি ও বিকাশেও এগিয়ে থাকবে।
সূত্র : কলকাতা ২৪×৭
















