বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভালো-মন্দ খেয়ে অনেকের গলা-বুক জ্বালায় অস্থির। বাড়িতেও কোনো দিন মাছ বা মাংস বেশি খেয়ে ফেললে একই পরিস্থিতির শিকার হন অনেকে। এসিডিটির সমস্যায় যারা বেশি ভোগেন, তারা হয়তো ভাবতে পারেন কিছু খেলেই এসিডিটি হওয়ার অর্থ হলো ‘এসিড রিফ্লাক্স’-এর সমস্যা অথবা ‘জিইআরডি’ অর্থাৎ, ‘গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ’। এই দুটিই হলো হজমের সমস্যা।
তবে সব ক্ষেত্রে এসিডিটি হওয়া মানেই যে হজমের সমস্যা হবে, তা না-ও হতে পারে। তা হলে কারণটা কী? চলুন, জেনে নেওয়া যাক—
ঘন ঘন অম্বল, বুক জ্বালা, বুকে ব্যথার কারণ এসিড রিফ্লাক্স না হয়ে হাইটাস বা হাইটাল হার্নিয়াও হতে পারে। হার্নিয়ার কথা অনেকেই জানেন, তবে হাইটাস হার্নিয়া অতটা পরিচিত অসুখ নয়। এটি এমন একটি রোগ, যাতে খাদ্যনালির ক্ষতি হয়।
যে পথে খাবার পাকস্থলীতে গিয়ে পৌঁছায়, তাকে বলে খাদ্যনালি বা ইসোফেগাস। মূল সমস্যাটা হয় সেখানেই।
হার্নিয়া ও হাইটাস হার্নিয়ার মধ্যে পার্থক্য কোথায়
একটি বালতির মধ্যে ফুটো হয়ে গেলে পানি বের হয়ে আসবে। হার্নিয়াও তাই।
পেটের সামনের দিকে থাকে পেশির স্তর। সেখানে থাকে অন্ত্র, নালি, চর্বি ইত্যাদি। কিন্তু পেটের মধ্যে কোথাও ফুটো হয়ে গেলে এই ভেতরের পদার্থগুলো বাইরে বের হয়ে আসতে চাইবে। একেই হার্নিয়া বলে।
আর হাইটাস হার্নিয়ার ক্ষেত্রে তা হয় উল্টো।
এই রোগে পাকস্থলী, পেটের নাড়িভুঁড়ি সব ঠেলে ওপরে উঠে আসতে শুরু করে। পেটের ভেতরের সব কিছু যদি বুকের দিকে উঠে আসতে থাকে, তাহলে খাবার না পাকস্থলীতে গিয়ে পৌঁছাবে, না হজম ঠিকমতো হবে।
খাবার বিপাকের জন্য পাকস্থলী থেকে যে অম্লরস বের হয়, তা খাদ্যনালি দিয়ে ওপরে উঠতে শুরু করবে। তখন এসিড রিফ্লাক্স বা জিইআরড-র সমস্যা দেখা দেবে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, এসিড রিফ্লাক্স হলো উপসর্গ মাত্র, আসল কারণই হলো হাইটাস হার্নিয়া, যে কারণে অম্বলের সমস্যায় ভোগেন অনেকে।
হাইটাস হার্নিয়ার জন্য যে শুধু অম্বল হবে, তা কিন্তু না। এই রোগ অগ্ন্যাশয়েরও ক্ষতি করে। এই রোগে আক্রান্তদের শ্বাসকষ্ট হতে পারে, খাবার গিলতে সমস্যা হতে পারে। এমনকি মলের সঙ্গে রক্তও বের হতে পারে। এই রোগ থাকলে পেট ফাঁপার সমস্যা সহজে কমবে না, আলসারের লক্ষণও দেখা দিতে পারে। রোগের বাড়াবাড়ি হলে গলার স্বরেও বদল আসতে পারে।
হাইটাস হার্নিয়া শুধু ওষুধে সারে না। রোগীর অবস্থা দেখে ল্যাপারোস্কোপি করেন চিকিৎসকরা। ‘ল্যাপারোস্কোপিক ফান্ডোপ্লিকেশন’ নামে এক ধরনের অস্ত্রোপচারের পদ্ধতি আছে, যা কাটাছেঁড়া না করেই করা হয়। খাদ্যনালি ও পাকস্থলীতে ক্ষত হলে তা মেরামত করার জন্যই এই সার্জারি করা হয়।
হাইটাস হার্নিয়া থেকে বাঁচতে খাওয়াদাওয়ায় অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ আনা জরুরি। বেশি তেলমসলাযুক্ত খাবার দিনের পর দিন খেতে থাকলে, তার থেকে এই রোগ হওয়া অস্বাভাবিক নয়। হাইটাস হার্নিয়ার আরো একটি কারণ হলো স্থূলত্ব। ওজন বাড়তে থাকলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তা ছাড়া বয়স্করাও এই রোগে ভোগেন। দেশে ৫০ থেকে ৬৫ বছর বয়সি অন্তত ৬০ শতাংশের হাইটাস হার্নিয়া আছে। তার থেকেও আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, রোগটি নিয়ে সচেতনতাও তেমন নেই। গ্যাস-অম্বলের সমস্যা ভেবে অনেকেই এড়িয়ে যান, ফলে রোগটি ধরাও পড়ে না। পরবর্তী সময়ে গিয়ে মাল্টিপল আলসার ধরা পড়লে তখন রোগটির চিকিৎসা শুরু হয়। তাই গোড়া থেকেই সাবধান হওয়া জরুরি।
সূত্র : আনন্দবাজার ডট কম
















