শিশুরা সাধারণত রঙিন জিনিসের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়। এই কারণেই বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজনরা তাদেরকে খুশি করার জন্য আলো, উচ্চস্বরে সঙ্গীত ও শব্দযুক্ত খেলনা কিনে দিয়ে থাকেন। কিন্তু অনেকেই জানেন না, এটি করার মাধ্যমে অজান্তেই আপনার সন্তানের মানসিক বিকাশের ওপর প্রভাব ফেলছেন। এমনটাই জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা।
কোলাহলপূর্ণ ও হালকা খেলনা শিশুর ওপর কী খারাপ প্রভাব ফেলে
উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উজ্জ্বল রঙিন আলো ও উচ্চ শব্দযুক্ত খেলনা একটি ছোট শিশুর স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত করতে পারে এবং তাকে খিটখিটে করে তুলতে পারে। এর ফলে শিশুর ঘুম এবং শেখার ক্ষমতার ওপর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে।
কল্পনা শক্তি দুর্বল
চিকিৎসকদের মতে, উজ্জ্বল আলো ও শব্দযুক্ত খেলনাগুলোর ভেতরে সবকিছু ইতোমধ্যেই লাগানো থাকে। যা খেলনার বোতাম টিপানোর সঙ্গে সঙ্গে নিজেই নড়াচড়া ও কথা বলতে শুরু করে।
এই ধরনের খেলনা দিয়ে খেলার সময় শিশু কেবল সেগুলো দেখে ও শোনে। কিন্তু তার মন দিয়ে কিছু চিন্তা করে না এবং শেখে না। যার কারণে তার কল্পনাশক্তি ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বিকশিত হয় না।
ভাষা শেখায় বিলম্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট বাচ্চারা যখন বাড়ির বড়দের কথা বলতে ও গল্প বলতে দেখে, তখন তারা তাদের ভাষা থেকে নতুন শব্দের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু দ্রুত শিখে ফেলে।
কিন্তু খেলনার রেকর্ড করা কণ্ঠস্বর শুনে এটি সম্ভব হয় না। মনোযোগের অভাব খেলনা থেকে নির্গত উচ্চ শব্দ ও আলোর কারণে শিশুর মনোযোগ অন্যদিকে সরে যেতে থাকে। যার কারণে শিশু দীর্ঘক্ষণ একটি জিনিসে মনোনিবেশ করতে পারে না। এই ধরনের শিশুদের পড়াশোনার সময় পরে মনোযোগ দিতেও সমস্যা হয়।
খেলা থেকে দূরত্ব
সাধারণ খেলনা শিশুকে শেখার এবং মানসিকভাবে বিকাশের পূর্ণ সুযোগ দেয়।
কিন্তু হালকা ও উচ্চ শব্দযুক্ত এই খেলনাগুলো থেকে সেটা পাওয়া যায় না। চিকিৎসকদের পরামর্শ, দামি খেলনার পরিবর্তে শিশুকে খেলার জন্য সহজ খেলনা দিন।
তাই যতটা সম্ভব শিশুর সঙ্গে কথা বলুন, তার চোখের দিকে তাকান এবং হাসুন, তাকে গল্প বলুন। এটি করার মাধ্যমে আপনার ও আপনার সন্তানের মধ্যে একটি দৃঢ় বন্ধন তৈরি হবে। এ ক্ষেত্রে একটি বিষয়ে সচেতন হতে হবে, যেন খেলনা থেকে নির্গত লেজার আলো শিশুর চোখ থেকে দূরে থাকে।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
















