সম্প্রতি বিমানে বিপদের মুখে পড়েন বলিউড অভিনেত্রী ফাতিমা সানা শেখ। হঠাৎই তার সারা শরীরে কাঁপুনি শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গে বিমানেই তার চিকিৎসা শুরু করতে হয়। এই অভিনেত্রী মূলত মৃগী রোগে আক্রান্ত।
এর আগেও সিনেমার শ্যুটিংয়ে মৃগীতে আক্রান্ত হন তিনি।
মৃগী রোগ থাকলে যথেষ্ট সতর্কভাবে চলতে হয়। পরিবর্তন আনা জরুরি জীবনধারায়ও। সেই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হয়।
তবে মৃগী রোগ থাকলে কি বিমানযাত্রা নিরাপদ? কিভাবেই বা নিয়ন্ত্রণে রাখবেন এই রোগকে। জেনে নিন—
মৃগী কেন হয়
স্নায়ুঘটিত এই রোগ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জিনগত কারণে দেখা যায়। তবে মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত থেকেও মৃগী হতে দেখা গেছে অনেকের। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্কদেরও এই রোগ হতে পারে।
তবে কারণটা ভিন্ন। মস্তিষ্কের স্নায়ু কিংবা গঠনগত কোনো সমস্যা থাকলেও কিন্তু এই রোগ হানা দিতে পারে।
আরো পড়ুন
প্রতিদিনের যেসব খাবারে বাড়ে ক্যান্সার-ডায়াবিটিসের ঝুঁকি
প্রতিদিনের যেসব খাবারে বাড়ে ক্যান্সার-ডায়াবিটিসের ঝুঁকি
মানুষের মস্তিষ্কে অসংখ্য সূক্ষ্ম স্নায়ুর ‘সার্কিট’ থাকে। এটি শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে। সেই স্নায়ুর সার্কিটে অতিরিক্ত ‘স্পার্কিং’-এর কারণেই মৃগী রোগ দেখা দেয়।
এই মৃগী দুই ধরনের হতে পারে। প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, প্রাইমারি এপিলেপ্সিতে মস্তিষ্কের গঠনগত ত্রুটি থাকে না। অন্য দিকে, মাথায় চোট পাওয়ার কারণে, মাথায় টিউমার থাকলে বা হঠাৎ শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ কমে গেলে হতে পারে সেকেন্ডারি এপিলেপ্সি।
কিভাবে সতর্ক থাকতে হবে
প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে বলা যায়, রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে, খিঁচুনি হতে পারে। রোগীর শরীরে যতক্ষণ খিঁচুনি হবে, তাকে স্পর্শ না করাই ভালো। খেয়াল রাখতে হবে, রোগী যাতে আঘাত না পান। সম্ভব হলে তাকে মাটিতে শুইয়ে দিন, মাথার নিচে বালিশ জাতীয় নরম কিছু দিন। খিঁচুনির সময়ে রোগীর হাত-পা সঞ্চালনে বাধা দেবেন না। এতেও তিনি চোট পেতে পারেন। এমনকি হাড়ে চিড়ও ধরতে পারে।
মৃগী রোগ নিয়ে বিমানযাত্রা করা যেতে পারে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে। রোগটির লক্ষণ যাতে দেখা না দেয়, সে জন্য নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ কমাতে হবে। সেই সঙ্গে আরো কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি। সেগুলো হচ্ছে—
অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান, বেশি রাত জাগা, যেকোনো ধরনের নেশার বস্তু থেকে দূরে থাকতে হবে।
মৃগী রোগ নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক শর্ত হলো, নিয়ম করে ওষুধ খাওয়া। যাদের স্নায়ুর সমস্যার কারণে নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়, তাদেরও এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কোনোভাবেই ওষুধ খাওয়া বাদ দেওয়া যাবে না।
ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হলে এই ধরনের সমস্যা বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোনোর অভ্যাস করা জরুরি। রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমাতেই হবে। কাজের মাঝে ‘পাওয়ার ন্যাপ’ নিতে পারলেও ভালো হয়।
রোগীর সমস্যাটি কোন পর্যায়ে রয়েছে, সেটা বোঝার জন্য এমআরআই ও ইইজি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ডায়াগনসিস প্রক্রিয়া শেষ হলে রোগের মাত্রা বুঝে রোগীকে ওষুধ দেওয়া হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পরেও রোগ নিয়ন্ত্রণে না এলে, তখন অস্ত্রোপচার করানোর প্রয়োজন হয়।
সূত্র : আনন্দবাজার ডট কম
















