প্রতিদিনের চা, বিরিয়ানি কিংবা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় একটি পরিচিত নাম দারুচিনি। সুগন্ধযুক্ত এই মশলা শুধু রান্নায় স্বাদ বাড়ায় না, বরং শরীরের নানা উপকারেও কার্যকর ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক গবেষণাতেও এর স্বীকৃতি পেয়েছে এই মশলা।
দারুচিনি দীর্ঘদিন ধরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ব্যাকটেরিয়া-নাশক ও হজমে সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, দারুচিনি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে, বিপাকক্রিয়া বাড়াতে ও দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ২০২০ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ৩ গ্রাম দারুচিনি গ্রহণ করলে রক্তে শর্করা, ইনসুলিন সেনসিটিভিটি এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা উন্নত হয়।
ওজন নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা জাদুকরী না হলেও কার্যকর। প্রথমত, এই মশলা ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বৃদ্ধি করে।
বিশেষত কিছু দারুচিনি ইনসুলিনের মতো কাজ করে। এতে শরীর সহজে গ্লুকোজ শোষণ করে। যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। অপরদিকে এটি হজমের গতি হ্রাস করে।
এর প্রভাবে হজম ধীরে হয় বলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভব হয়। এতে ক্ষুধা কম লাগে এবং খাবার গ্রহণের পরিমাণ কমে যায়।
সুগন্ধি এই মশলার আরো নানা উপকারি দিকের মধ্যে আছে— এলডিএল কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করা, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ক্ষুধা দমন করা ইত্যাদি।
তবে দারুচিনি সঠিকভাবে ও সঠিক পরিমাণে ব্যবহার না করলে হতে পারে বিপদ। এটি বেশি খাওয়া হলে এতে থাকা কুমারিন নামক উপাদান বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে।
এছাড়া আরো যা বিপত্তি ঘটার সম্ভবনা আছে — লিভারের ক্ষতি হওয়া, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যাওয়া (ডায়াবেটিসের ওষুধ খাওয়া ব্যক্তিদের জন্য), মুখে ঘা বা অ্যালার্জি, শ্বাসকষ্ট (গুঁড়া দারুচিনি নিঃশ্বাসের সাথে প্রবেশ করলে)। তাই বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন ১/৪ থেকে আধা চা চামচ দারুচিনি ব্যবহার করার পরামর্শ দেন।
দারুচিনি কোনো জাদু নয়। তবে এটি সুস্বাস্থ্যের জন্য একটি শক্তিশালী সহায়ক হতে পারে। সঠিক পদ্ধতি ও পরিমাণে ব্যবহার করলে এটি রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ, বিপাকক্রিয়া উন্নত করতে ও ক্ষুধা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে একে একমাত্র সমাধান ভাবা ভুল হবে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা, ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ—এসবের সঙ্গেই দারুচিনির ব্যবহার এনে দিতে পারে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল।
সূত্র : এনডিটিভি
















