অনেকেই প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা ঘুমিয়ে থাকেন। তারা ভাবেন আগামী দিনের কাজ চালিয়ে যেতে ৬ ঘণ্টা ঘুমই যথেষ্ট। যদিও বিশেষজ্ঞরা ৭‑৮ ঘণ্টার ঘুম সুপারিশ করে থাকেন। কিন্তু ৬ ঘণ্টা ঘুম কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর?
ঘুম কমানো মূলত আপনার হৃদরোগের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
ভারতীয় কার্ডিওলজিস্ট ডা. অমিত কুমার নিশ্চিত করে বলছেন, ‘ছয় ঘণ্টা ঘুম যথেষ্ট নয়।’ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ঘুমের অভাব সৃষ্টি করবে এবং পরে এটি হার্টের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এই কার্ডিওলজিস্ট আরো বলেন, যদিও কেউ নিজেকে ‘জাগতিক’ এবং কম ঘুমওয়ালা মনে করতে পারেন, তবুও সেটি ঘুমের অভাবই হয়। তিনি বলেন, ‘অনেকেই বলে থাকেন, ৬ ঘণ্টা ঘুমালে তারা ঠিকঠাক চলতে পারেন।
কিন্তু জাগতিক থাকা ও সুস্থ থাকা এক কথা নয়। হয়তো আমরা দোস্তি অনুভব কম করি, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে আমাদের হার্ট নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
হার্টের জন্য কেন পর্যাপ্ত ঘুম গুরুত্বপূর্ণ
যদিও আপনি ছয় ঘণ্টায় দৃষ্যতর ভাবতে পারছেন না, সেটি আপনার হৃদয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং এই অভ্যাস নিয়মিত হলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গুরুতর কার্ডিওভাসকুলার (হৃদয়‑রক্তনালি) সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।
ডা. কুমার তুলে ধরেন, ঘুম কিভাবে আমাদের শরীরের মধ্যে ‘মেরামতের’ কাজ করে।
তিনি বলেন,
“ঘুমের সময়, আমাদের শরীর একটি ‘মেরামত’ যন্ত্রের মতো কাজ করে, রক্তচাপ কমে যায়, হৃদস্পন্দন ধীরে হয় এবং স্ট্রেস হরমোন কমে যায়, যাতে কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমকে একটু বিশ্রাম দেওয়া যায়। ঘুমের সময় আমাদের টিস্যুগুলো মেরামত হয়, প্রদাহজনক প্রক্রিয়াগুলো কমে যায় এবং রক্তনালিগুলো সুস্থ হয়।’
প্রতিদিন ৭ ঘণ্টার কম ঘুমালে কী হয়
আপনি যদি প্রতিদিন ৭ ঘণ্টার কম ঘুমান, তাহলে এই সূক্ষ্ম ‘মেরামতের চক্র’ বিঘ্নিত হয় এবং হৃদয় কোনো ‘পুনরুদ্ধার’ ছাড়া কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
ডা. কুমার এ বিষয়টি আরো বিশদে ব্যাখ্যা করেছেন, ‘যখন উপযুক্ত ঘুম নেই, যেমন অনেক সময় ৭ ঘণ্টার কম ঘুম হওয়া, হার্ট কম বিশ্রামের সঙ্গে কাজ করতে হয়; এর ফলে কিছুদিন পরে হার্ট বাড়তি চাপের মধ্যে পড়ে; যা হতে পারে উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন এবং রক্তনালিতে ক্ষতির কারণ।’
ঘুমের অভাবের ৪টি প্রভাব
ঘুমের অভাব শুধু সকালে আলসেমি বা চোখে খসখস করা মতো সমস্যাই দেখায় না, নিয়মিত কম ঘুমালে একটি সময় গড়িয়ে গুরুতর সমস্যায় পরিণত হতে পারে।
ডা. অমিত কুমার নিম্নলিখিত চারটি সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলে ধরেছেন—
উচ্চ রক্তচাপ : ঘুম কম হলে শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না। ফলে পরদিনের কাজ শেষে রাত্রে রক্তচাপ নেমে আসতে পারে না এবং হার্টও পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না।
বর্ধিত প্রদাহ : ঘুম কম হলে রক্তনালির প্রদাহ বাড়ে, যা হৃদরোগের সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি।
হরমোন পরিবর্তন : পর্যাপ্ত ঘুম না হলে স্ট্রেস হরমোন বাড়ে, আর ওই হরমোনগুলোর সঙ্গে খাবার খাওয়ার ইচ্ছার নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলোর ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। এর ফলে ওজন বাড়ে, আর এর ফলে হার্ট অতিরিক্ত চাপ অনুভব করে।
এট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন : ঘুমের অভাব হার্টের বৈদ্যুতিক সংকেতকে বিঘ্নিত করতে পারে, যা অ্যারিথমিয়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
হার্ট ভালো রাখতে কতটা ঘুম প্রয়োজন
এখন ছয় ঘণ্টা যথেষ্ট নয় বলেই ধরা হয়েছে; তাহলে কত সময় ঘুমানো উচিত? ডা. কুমার জানান, অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য প্রতি রাতে ৭-৯ ঘণ্টা ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। তবে কেবল ঘণ্টা সংখ্যাই নয়, ঘুমের গুণগত মান ও ঘুমের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ।
গভীর ঘুম ও আরইএম সাইকেলগুলো শরীরকে মেরামত করার জন্য অত্যাবশ্যক। প্রতি রাতে একই সময়ে ঘুমাতে যান, ঘুমানোর আগে স্ক্রিন ব্যবহারে কমিয়ে আনুন এবং ঘুমের ঘর অন্ধকার ও শান্ত রাখুন। এগুলো ঘুমের মান উন্নয়নে সাহায্য করে।
আপনি হয়তো ছয় ঘণ্টা ঘুমানোর পর সকালে ক্লান্ত অনুভব করেন না, কিন্তু আপনার হার্ট নীরবে এর মূল্য দিচ্ছে। প্রতিদিন পক্ষে পর্যাপ্ত ও ভালো‑মানের ঘুম স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
















