আপনি কি কখনো ভেবেছেন, কেন অস্ত্রোপচারের (সার্জারি) আগে রোগীদের কঠোরভাবে না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়? এমনকি একমুঠো বাদাম বা এক টুকরা কলাও নয়। বিষয়টি নিয়ে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। চলুন, জেনে নেওয়া যাক—
কী জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা
সাধারণত অস্ত্রোপচারের আগে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা কিছু খাওয়া নিষিদ্ধ থাকে। কিছু ক্ষেত্রে পরিষ্কার তরল (যেমন পানি) খাওয়া যেতে পারে।
তবে অন্তত ৮ ঘণ্টা কোনো শক্ত খাবার একেবারেই খাওয়া যাবে না।
পুষ্টিবিদ কানিকা মালহোত্রা বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের আগে উপবাস থাকা কেবল নিয়ম নয়, এটি একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া—যাকে বলে ‘এনপিও’ (নাথিং বাই মাউথ)। এটি প্রতিটি রোগীর নিরাপত্তা ও দ্রুত সেরে ওঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
জুপিটার হাসপাতালের ডিরেক্টর ও ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. অমিত সরাফ বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের সময় যখন অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়া হয়, তখন শরীরের স্বাভাবিক রিফ্লেক্সগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
তখন যদি পেটে খাবার বা তরল কিছু থাকে, সেগুলো ওপরে উঠে গিয়ে ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে। এতে চোকিং বা ‘অ্যাসপিরেশন নিউমোনিয়া’র মতো জটিল সমস্যা হতে পারে। তাই পেট খালি রাখা অ্যানেস্থেশিয়াকে নিরাপদ করে এবং সার্জারিকে সহজ করে।’
সব ধরনের সার্জারির ক্ষেত্রেই কি প্রযোজ্য?
ডা. সরাফের মতে, ‘ছোট সার্জারি হোক বা বড়, অ্যানেস্থেশিয়া শরীরের গেলা ও কাশি দেওয়ার রিফ্লেক্সে বাধা সৃষ্টি করে।
তাই প্রায় সব ধরনের অস্ত্রোপচারের আগেই মুখ দিয়ে কিছু না খাওয়ার নিয়ম পালন করতে হয়। পার্থক্য শুধু উপবাসের সময়ের দৈর্ঘ্যে, যা নির্ভর করে সার্জারির ধরন ও রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর।’
নিয়ম মানলে কী হয়
যদি রোগী সার্জারির আগে প্রায় ৮ ঘণ্টা শক্ত খাবার এবং ২ ঘণ্টা তরল খাবার থেকে বিরত থাকেন, তখন শরীর খাবার হজম করে পেট খালি করতে পর্যাপ্ত সময় পায়। এতে সার্জারির সময় শ্বাসনালি সুরক্ষিত থাকে।
পুষ্টিবিদ মালহোত্রা বলেন, ‘এটি হয়তো কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে, বিশেষ করে যারা সার্জারি নিয়ে চিন্তিত, কিন্তু এটি সার্জিক্যাল নিরাপত্তার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
”
মুম্বাইয়ের গ্লেনিগলস হাসপাতালের প্রধান সার্জন ডা. স্বরূপ স্বরাজ পাল বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের আগে উপবাস রাখলে অ্যানেস্থেশিয়া নিরাপদে দেওয়া যায় এবং সার্জারির পর বমি-বমি ভাব বা বমির আশঙ্কা কমে।’
মালহোত্রা আরো যোগ করেন, ‘নিয়ম মেনে চললে ঝুঁকি কমে, সার্জারি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় এবং রোগীর সুস্থতা দ্রুত ফিরে আসে।”
সতর্কতা
এই নিয়ম শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ—এটি নিরাপদ সার্জারির নিশ্চয়তা দেয়।
এক কাপ চা বা হালকা নাস্তা নিরাপদ ভাবা ভুল—তাতেও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সার্জারির আগে ভুলবশত কিছু খেলে তা চিকিৎসককে অবশ্যই জানানো উচিত, লুকিয়ে রাখা পরবর্তীতে বিপজ্জনক হতে পারে।
ওষুধ সংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি—কিছু ওষুধ উপবাসের সময় সামান্য পানিসহ নেওয়া লাগতে পারে।
সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
















