সস্তা, সহজলভ্য ও পুষ্টিতে ভরপুর ফলের কথা বললে সবার আগে আসে পেয়ারার কথা। শুধু ভিটামিন সি বা ফাইবারে নয়, এই ফলটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্টেরও ‘পাওয়ার হাউস’। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সঠিক সময়ে ও সঠিক নিয়মে পেয়ারা রাখলে শরীর পাবে রোগ প্রতিরোধের দারুণ ক্ষমতা। চলুন, বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
পেয়ারার পুষ্টিগুণ
পেয়ারায় রয়েছে উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি, সেই সঙ্গে থাকে ভিটামিন এ, লাইকোপেন, পটাশিয়াম, ফাইবারসহ আরো অনেক খনিজ উপাদান। এই উপাদানগুলো শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজকে সচল রাখতে সাহায্য করে।
কিন্তু কখন ও কিভাবে এই ফলটি খেলে আপনি এর সম্পূর্ণ উপকারিতা লাভ করবেন, নিম্নে তা নিয়ে আলোচনা করা হলো।
পেয়ারা খাওয়ার সঠিক সময়
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফল খাওয়ার সঠিক সময় শরীরের প্রয়োজন ও হজম ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।
তবে পেয়ারার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট সময়ের কথা বিশেষজ্ঞরা জানান। যখন এটি খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়।
আরো পড়ুন
শুধু মস্তিষ্ক নয়, স্মৃতি ধরে রাখে অন্য অঙ্গও, গবেষণায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
শুধু মস্তিষ্ক নয়, স্মৃতি ধরে রাখে অন্য অঙ্গও, গবেষণায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
সকালের খাবারের পরে
সকালে ভারী ব্রেকফাস্টের পর বা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে পেয়ারা খাওয়া খুব ভালো। এই সময় পেয়ারা খেলে শরীরে শক্তি তৈরি হয়।
পেয়ারায় থাকা ফাইবার ও প্রাকৃতিক শর্করা দিনের বাকি সময়ের জন্য শক্তি জোগাবে। এ ছাড়া হজম প্রক্রিয়া উন্নত, পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করা এবং হজম ক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখে পেয়ারা।
দুপুরের খাবারের আগে বা পরে
পেয়ারা ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। দুপুরের খাবারের আগে একটি পেয়ারা খেলে অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকা যায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও অনেকটাই সুবিধা হয়।
বিকেলের স্ন্যাকস হিসেবে
বিশেষজ্ঞরা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বিকেলের দিকে একটি পেয়ারা খাওয়ার পরামর্শ দেন।
এটি খেলে ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
কিভাবে পেয়ারা খেলে বেশি উপকার
খোসাসহ চিবিয়ে : পেয়ারার খোসা ও বীজের মধ্যেই থাকে সবচেয়ে বেশি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ফাইবার। তাই এটিকে ভালোভাবে ধুয়ে খোসাসহ চিবিয়ে খান। এটি দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়ক।
পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ : সারা দিনে একটি মাঝারি আকারের পেয়ারা খাওয়াই যথেষ্ট। অতিরিক্ত পরিমাণে পেয়ারা খেলে অনেক ফাইবার একসঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে। তাতে পেটে অস্বস্তি বা গ্যাসের সৃষ্টি করতে পারে।
চিনি না মিশিয়ে : পেয়ারা এমনিতেই মিষ্টি। এর রস করে বা অন্য কোনো উপায়ে খাওয়ার সময় এর মধ্যে ভুল করেও চিনি যোগ করবেন না। এতে ফলের প্রাকৃতিক গুণ কমে যায় এবং ক্যালরির পরিমাণ বেড়ে যায়।
সালাদে বা দইয়ের সঙ্গে : পেয়ারা ছোট ছোট টুকরো করে ফলের সালাদে বা টক দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে পুষ্টিগুণ আরো বাড়ে।
সূত্র : টিভি৯ বাংলা
















